দুর্গাসাগর দিঘী

দুর্গাসাগর দীঘি
শেয়ার করুন সবার সাথে

দুর্গাসাগর দিঘী

বাংলার ভেনিস খ্যাত বরিশালের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে দুর্গাসাগর অন্যতম। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে এই দিঘীটির অবস্থান। এটি বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় দিঘী। স্থানীয় মানুষদের কাছে এটি মাধবপাশা দীঘি নামেও পরিচিত। ১৭৮০ সালে রাজা শিব নারায়ন এলাকাবাসীর পানির সংকট দূর করতে ২৭ একরের বিশাল আকারবিশিষ্ট এই জলাভূমিটি খনন করেন। কথিত আছে শিব নারায়নের স্ত্রী রানী দুর্গাবতীর নাম অনুসারে এই দিঘীটির নামকরণ করা হয়েছে। দুর্গাসাগর দিঘীটি চারিদিক থেকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। দিঘীর মাঝখানে সবুজে আচ্ছাদিত ছোট একটি দ্বীপ রয়েছে, যাকে এর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বলা চলে। তবে সেখানে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় দ্বীপটির সৌন্দর্য পর্যটকদের দূর থেকেই উপভোগ করতে হয়। দিঘীটির শান্ত জলরাশি এবং নির্মল বাতাস দর্শনার্থীদের হৃদয়ে সজীবতার সঞ্চার করে। দিঘীর চারিদিকেই দেখা মেলে নয়নাভিরাম নানা ধরণের গাছের। মনোরম এই পরিবেশের কারণে শীতকালে এখানে অতিথি পাখিদের আগমন ঘটে। দীঘিটির পাড়ে হাটার জন্য রাস্তা এবং বসে সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বেঞ্চ দেওয়া রয়েছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে টিকেট কেটে মাছ ধরার সুযোগও পেয়ে যাবেন এখানে। এছাড়া দীঘির পাড়ে বদ্ধ স্থানে দেখা পাবেন কিছু পালিত হরিণের। আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে দুর্গাসাগরে যাওয়ার উপায় এবং থাকার স্থান বিষয়ক তথ্যাদি।

দুর্গাসাগর যাবেন কীভাবে

ঢাকা থেকে বরিশাল 

নদীপথ

প্রতিদিন ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল রুটের লঞ্চগুলো রাত ৮.৩০ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে ছেড়ে যায়। এই রুটে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ হলো পারাবত-৯/১০/১১/১২, সুন্দরবন-১০/১১, সুরভী-৭/৮/৯, কীর্তনখোলা-২/১০, এ্যাডভেঞ্চার-১/৯, কুয়াকাটা-২ এবং মানামী।



এসব লঞ্চের ডেক ভাড়া ২০০ টাকা, সোফা ৬০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১০০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২০০০ টাকা, ফ্যামিলি কেবিন ৩০০০ টাকা এবং ভি.আই.পি. কেবিনের ভাড়া ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ রুটের লঞ্চগুলো সাধারণত ভোর ৫টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এছাড়া দিনের বেলা ভ্রমণ করতে চাইলে গ্রীন লাইন ক্যাটামেরানে বরিশাল যেতে পারেন।

যোগাযোগের নম্বর 
কুয়াকাটা-২ঃ +৮৮০ ১৭৮৬০৬১৫৮৫
কীর্তনখোলা-১০ঃ +৮৮০ ১৭৭৮৭৮৬৯৫৪
সুরভী-৯ঃ +৮৮০ ১৭১১৯৮৩৫৩৪
সুন্দরবন-১০ঃ +৮৮০ ১৭৫৮১১৩০১১
গ্রীন লাইন – ২/৩ঃ ১৬৫৫৭ (হটলাইন)

সড়কপথ

ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর ৬টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় বরিশালের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ঈগল, হানিফ, সাকুরা-সহ বেশ কিছু অপারেটরের বাস এই রুটে চলাচল করে। নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা। এই বাসগুলোর গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘন্টা। এর পাশাপাশি বরিশাল রুটে চলাচল করে কিছু লোকাল বাস, এসব বাসের ভাড়া ৩০০ টাকার কাছাকাছি। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসগুলোর যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।

যোগাযোগের নম্বর 

সাকুরা পরিবহনঃ ০১৭২৯৫৫৬৬৭৭
ঈগল পরিবহনঃ ০১৭৭৯৪৯৩১৫৬

বরিশাল থেকে দুর্গাসাগর

বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে বরিশাল – বানারিপাড়া, বরিশাল – চাখার রুটের বাসে করে দুর্গাসাগর যাওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি প্রাইভেট কার, মাইক্রো, অটো রিক্সা বা লেগুনা-তে করেও দুর্গাসাগর যাওয়া যায়। বরিশাল থেকে দুর্গাসাগরের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৫০ মিনিট।

থাকবেন কোথায়

দুর্গাসাগরের আশেপাশে থাকার জন্য তেমন কোনো ভালো মানের হোটেল নেই। তবে বরিশাল শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু উন্নতমানের হোটেল রয়েছে। তবে বুক করার পূর্বে রুম দেখে নেওয়ার পরামর্শ রইলো। নিম্নে কয়েকটি আবাসিক হোটেলের নাম, ঠিকানা ও নম্বর দেওয়া হলো –

১.হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল
ঠিকানাঃ সদর রোড, বরিশাল
নম্বরঃ ০১৭৯২১৫১১৯১

২.হোটেল সেডোনা
ঠিকানাঃ সদর রোড, বরিশাল
নম্বরঃ ০৪৩১-৭১৫০৮



৩.হোটেল এ্যাথেনা ইন্টারন্যাশনাল
ঠিকানাঃ কাটপট্টি রোড, বরিশাল
নম্বরঃ ০১৭১২২৬১৬৩৩

৪.হোটেল গ্রান্ড পার্ক
ঠিকানাঃ চাঁদমারি, বরিশাল
নম্বরঃ ০৪৩১-৭১৫০৮

৫.হোটেল এরিনা
ঠিকানাঃ সদর রোড, বরিশাল
নম্বরঃ ০১৭২৪৪৪৪৪৮৮


শেয়ার করুন সবার সাথে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!