আহসান মঞ্জিল

আহসান-মঞ্জিল
শেয়ার করুন সবার সাথে

আহসান মঞ্জিল এর ইতিহাস 

ঢাকায় ঘুরে দেখবার কিন্তু কম জায়গা নেই। এমনি একটি স্থান আহসান মঞ্জিল জাদুঘর। বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যের ভবন আহসান মঞ্জিল (Ahsan Manzil)। এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে যারা আহসান মঞ্জিলের নাম শুনেনি। পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী তীরে ইসলামপুরে এই ঐতিহ্য বহনকারী দোতলা ভবনটি অবস্থিত। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহিত হলেও অতীতে এটি ছিল নবাব মহল।

১৮৭২ সালে নওয়াব আবদুল গনি তাঁর পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামে ‘আহসান মঞ্জিল’ নামকরণ করেন। এই ভবন্টি রঙের কারণে এক সময়ে এটি পিংক প্লেস নামে জনসাধারণের কাছে পরিচিত ছিলো। অনেকেই মনে করেন আহসান মঞ্জিল তৎকালীন ঢাকার প্রথম ইমারত। ভবনটির স্থাপত্যশৈলী আজো আমাদের অবাক করে তার সৌন্দর্য  দিয়ে।  আজো আমরা বিমোহিত হই আহসান মঞ্জিল নিয়ে।

আহসান মঞ্জিল কে নির্মাণ করেন

শতাব্দীর মাঝামাঝিতে  জামালপুরের জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থানে রংমহল নামে ভবন তৈরি করেন। পুত্র শেখ মতিউল্লাহ রংমহলটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দিলে ভবনটি বাণিজ্য কুঠি হিসেবে পরিচিতি পায়। নওয়াব আবদুল গনির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ  ১৯৩০ সালে এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। ১৮৫৯ সালে নওয়াব আবদুল গনি ছেলের নাম অনুসারে নতুন ভবনের নির্মাণ শুরু করেন যা ১৮৭২ সালে শেষ হয়।



বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আহসান মঞ্জিল সংকটে পরে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা নওয়াব পরিবারের উত্তরসূরিরা আহসান মঞ্জিল নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্তনিলে তারা সরকারের কাছে অনুমোদন চাইলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ আহসান মঞ্জিলের স্থাপত্য সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ১৯৮৫ সালে আহসান মঞ্জিল প্রাসাদ এবং সংলগ্ন অঞ্চল নিয়ে জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

ভবনের স্থাপত্যশৈলী

আহহান মঞ্জিলের স্থাপত্য এখনো সবাইকে হার মানায়। প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসেন অবাক করা এই ভবন দেখতে। যদি পুরানো দিনের স্থাপত্য দেখতে ভালোবাসেন আহসান মঞ্জিল যেতে ভুলবেন না। সে সময়ের আর্কিটেকচারের অনবদ্য রসায়ন এই দোতালা ভবন।

আহহান মঞ্জিলের অন্যতম আকর্ষণ এর গুম্বুজ, সিড়ি, বারান্ধা। ১৮৮৮ সালে ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষতি হলে পুনর্র্নিমাণের সময় বর্তমান উঁচু গম্বুজটি সংযোজন করা হয়। গম্বুজ শীর্ষের উচ্চতা ২৭ দশমিক ১৩ মিটার, এই গম্বুজটি শহরের অন্যতম উঁচু চূড়া হওয়ায় বহুদূর থেকেও দেখা যেত। কাঠ দিয়ে নির্মান করা হয়েছে আহসান মঞ্জিলের ছাদ। ভবনটির মেঝে আর বারান্দা মার্বেল পাথের তৈরি।



শুধু তাই নয় আহসান মঞ্জিলের পূর্ব ও পশ্চিমের দুটি তোরণ রয়েছে। মূল ভবনের বাইরের ত্রি-তোরণবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারতি আপনার ভালো লাগবেই। ভবনের দোতালায় উঠবার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি কাড়ে। আহসান মঞ্জিলের দু’টি অংশে বিভক্ত। বৈঠকখানা ও পাঠাগার পূর্ব অংশে। পশ্চিম অংশে রয়েছে নাচঘর ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ। নিচতলায়  দরবারহল ও ভোজন কক্ষ।

নিজ দেখলে এই ভবনের আসল সৌন্দর্য বোঝা কঠিন। অতীতের ইতিহাস, রুপ নিয়ে ঝলমল করছে আজো প্রিয় আহসান মঞ্জিল।

জাদুঘর

১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আহসান মঞ্জিল জাদুঘরতি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।সিক বিবেচোনা করে এ প্রস্তাবতি নাকচ করে দেন। রং মহলের ৩১ টি কক্ষের ২৩টি নিয়ে জাদুঘরের গ্যালারী। নবাবদের ব্যবহিত বিভিন্ন জিনিসপত্র আর সেই সময়ের নানান সামগ্রী নিয়ে সাজানো হয়েছে আশান মঞ্জিল জাদুঘর।

জাদুঘরটিতে আসলে মনে হবে আপনি ১৮শ শতাব্দীতে গেছেন। সামনেই দেখতে যেন অতীতের বাংলার নবাব জমিদারদের অস্তিত স্পষ্ট হয়ে উঠে। মোট ৪ হাজারের বেশি নিদর্শন এক সাথে দেখতে পারবেন এ জাদুঘরে।

পরিদর্শনের সময়

প্রতি বৃহস্পতিবার আর সরকারি ছুটির দিনে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আহসান মঞ্জিল খোলা থাকে।



এছাড়াও শুক্রবারে বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত যে কোন সময়ে আহসান মঞ্জিলে আসতে পারবেন। সাধারণত শুক্রবারে কিছুটা ভিড় থাকে এখানে। প্রায় সব বয়েসের মানুষের মেলা বসে আহসান মঞ্জিলে।

টিকেট মূল্য

প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন জন্য উন্মুক্ত, তাদের প্রবেশের জন্য কোন টিকেট কিনতে হয় না। সাধারণ দর্শনার্থীদের জনপ্রতি টিকেট মূল্য ২০ টাকা। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ১০ টাকা। আহসান মঞ্জিল দেখতে কম বিদেশী আসেন না, তাদের টিকেট মূল্য ১০০ টাকা। টিকেটে আহসান মঞ্জিলের ছবি দেখতে পাবেন।

আহসান মঞ্জিল যাওয়ার উপায়

আপনি হয়তো আহসান মঞ্জিল যাওয়ার যাতায়েত ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছেন তবে এই অংশটি তার সমাধান। ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকেই আপনি আহসান মঞ্জিলের জাদুঘর দেখতে আসতে পারবেন। বাসে আসলে যে কোন স্থান থেকে গুলিস্থানে নেমে ৩০ টাকা  রিক্সা ভাড়ায় আহসান মঞ্জিলে পৌছে যাবেন। চাইলে ঊবার, সিএনজি নিয়ে সরাসরি আসতে পারবেন এখানে। আর যদি পুরান ঢাকায় বাসিন্দা হন রিক্সা নিয়ে যেতে পারেন ঐতিহ্যের ভাণ্ডার আহসান মঞ্জিলে।

ভ্রমণ টিপস

বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য আহসান মঞ্জিলে প্রবেশ করতে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরে আসবেন, অন্যথায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

আহসান মঞ্জিল ইসলামপুরে অবস্থিত যার যেখানে রয়েছে সবচাইতে বড় কাপড়ের পাইকারী মার্কেট। তাই এখানে আসলে পাইকারী দামে গজ কাপড়, পর্দার কাপড় কিনতে আর  মার্কেটে যেতে ভুলবেন না। এছাড়াও ইসলামপুরের কাছেই পাটুয়াটুলি যেখানে বসচাইতে বড় ঘড়ি আর চশমার মার্কেট। অবিশ্বাস্য কম দামে নামাদামী ব্রান্ডের ঘড়ি আর চশমা পাবেন।

আসলে পুরান ঢাকা মানেই অন্যরকম ব্যপার। পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার কিন্তু পাটুয়াটুলি থেকে একটু সামনে গেলেই। এ এক অন্য রকম ঐতিহ্যের স্থান। আহসান মঞ্জিলের এই দিকে আসলে একবার হলেও ঢু মারবেন শাঁখারী বাজার বা শাঁখারী পট্টীতে।

এমন অনেকেই আছেন যারা সারা বছর ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন কিন্তু খুব কাছের দৃষ্টিনন্দন স্থানে তাদের হাত ছানি দিলেও তারা দেখেন না। সবার আগে নিজের এলাকা থেকে ঘুরে শুরু করুন। নিজের বসবাসের অঞ্চলের সেরা স্পটগুলো মিস করবেন না।

আরও পড়ুনঃ


শেয়ার করুন সবার সাথে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!