কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের বিস্তারিত গাইড লাইন

Cox's Bazar sea beach
শেয়ার করুন সবার সাথে

দরজায় কড়া নাড়ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের মৌসুম। পরিবার পরিজন নিয়ে নিরিবিলিতে কিছুদিন ছুটির আমেজ উপভোগ করার জন্যে, অথবা বন্ধুরা মিলে হই হুল্লোড় করতে কিংবা নবদম্পতির হানিমুন, যে কোন উপলক্ষে দেশব্যাপী ভ্রমণপিয়াসী মানুষের প্রথম পছন্দ, পৃথিবীর দীর্ঘতম (১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য) এই প্রাকৃতিক সৈকত। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এই ভ্রমণের আদ্যপ্রান্ত –

কখন যাবেন

ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে বছরের প্রত্যেকটা দিনই ভ্রমণযোগ্য দিন মনে হলেও, পরিবেশ পরিস্থিতির বিবেচনায় শীতকালকেই ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময় বলে ধরা হয়। কারন এ সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, বৃষ্টিপাত কম হয় আর বোনাস হিসেবে পাওয়া যায় বাচ্চা-কাচ্চার স্কুল থেকে শীতকালিন ছুটি। তাইতো এই শীতকালটাকে ধরা হয় কক্সবাজার ভ্রমণের পিক সিজন

অফ সিজনে কক্সবাজার

সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এই ৬ মাস, কক্সবাজার ভ্রমনের জন্যে অফ সিজন হিসেবে গণ্য হয়। গরম এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারনে, বেশিরভাগ মানুষ এই সময়ে ভ্রমণ করতে অনিহা প্রকাশ করে থাকেন পর্যটক টানতে তাই সাধারণ মানের হোটেল থেকে পাঁচ তারকা হোটেল- রিসোর্টগুলো, ৩০৭০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে। এমনকি খাওয়ার খরচ এবং যানবাহন ভাড়াও কম থাকে এ সময়। কম খরচের সাথে বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রবিলাসের আনন্দ উপভোগ করতে চাইলে, অফসিজনে ভ্রমণ করাই যায়।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে করে কক্সবাজার যাওয়া যায় নীচে তিনটি উপায় নিয়ে বিস্তারিত বলা হলো।

ঢাকা থেকে বাসে

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাস। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৯৪ কিলোমিটার এবং সরাসরি বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় ৯-১২ ঘন্টা। এই রুটের উল্লেখযোগ্য বাস গুলোর মধ্যে আছে এনা পরিবহন, সোহাগ এন্টারপ্রাইজ, গ্রীনলাইন সার্ভিস, এস আলম পরিবহন , দেশ ট্রাভেলস , শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সেন্টমার্টিন পরিবহন ইত্যাদি।

ঢাকার গাবতলি, সায়েদাবাদ, রাজারবাগ, মালিবাগ, আব্দুল্লাহপুর, মহাখালী প্রভৃতি জায়গা থেকে বাস গুলো যাত্রা শুরু করলেও আরামবাগ, ফকিরাপুর, কমলাপুর, কল্যানপুর, বসুন্ধরা, বাড্ডা, আজমপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে যাত্রী উঠা-নামা করানো হয়। নন এসি বাসের জন্যে প্রতি সীটের ভাড়া পড়বে ১০৫০-১১০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া শ্রেণী ভেদে ১৫০০-২৭০০ টাকা।

অনেক অনেক বাসের মধ্যে দুটি জনপ্রিয় বাস কোম্পানির নাম এনা এবং সোহাগ পরিবহন। নীচে এই দুটি বাসের ডিটেইলস দেয়া হলঃ

সোহাগ পরিবহনের একটি এসি বাস, রাত ৯টায় আব্দুল্লাহপুর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বসুন্ধরা, বাড্ডা, মালিবাগ, আরামবাগ কাউন্টার থেকে যাত্রী উঠায়। ভাড়া পড়বে সীট প্রতি ২০০০ টাকা। একই পরিবহনের আরো একটি এসি বাস, রাত ১০.৪৫ এ মালিবাগ থেকে ছেড়ে যায় এবং আরামবাগে যাত্রী উঠায়। এটার ভাড়াও পড়বে ২০০০ টাকা। 

এই পরিবহনের আরেকটি এক্সক্লুসিভ বাস, পান্থপথ থেকে রাত ১০.১৫ তে ছেড়ে যায় এবং মালিবাগ ও আরামবাগ থেকে যাত্রী উঠায়, যার সীট প্রতি ভাড়া ২২০০ টাকা। 

যারা দিনের বেলা ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্যে এনা পরিবহন এর একটি নন এসি বাস সার্ভিস চালু আছে। বাসটি সকাল ৮.১০ এ মহাখালী বাস কাউন্টার থেকে ছেড়ে, বিকেল ৪.১০ এ কক্সবাজার পৌঁছে। ভাড়া পরবে ৮০০ টাকা। এছাড়া সেন্ট মার্টিন এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজেরও সকাল বেলার বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।

এনা পরিবহন আব্দুল্লাপুর থেকে তাদের যাত্রা শুরু করলেও রাজধানীর উত্তরা, এয়ারপোর্ট, মহাখালী এবং ফকিরাপুলের এনা কাউন্টার থেকে সুবিধামত যাত্রীরা উঠতে পারবেন। এনা পরিবহনের রাতে দুটি নন এসি সার্ভিস চালু আছে। এই বাসটি রাত ৯টা এবং ১০ টায় আব্দুল্লাহপুর কাউন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে, যথাক্রমে সকাল ৭টা এবং ৮টায় কক্সবাজার পৌঁছে।

এছাড়াও এনা পরিবহনের দুটি এসি বাস, রাত ৮.৫০ এবং রাত ৯.৩০ এ ঢাকা কাউন্টার থেকে ছেড়ে যায় এবং কক্সবাজার কাউন্টারে পৌঁছে যথাক্রমে  সকাল ৬ টা এবং ৭.২০ এ। এসি বাসের ভাড়া পড়বে শ্রেনী ভেদে ১২০০-১৬০০ টাকা।

ঢাকা থেকে ট্রেনে

ঢাকা থেকে ট্রেনেও কক্সবাজার যাওয়া যায়, তবে এই রুটে সরাসরি কোন ট্রেন সার্ভিস নেই। সেক্ষেত্রে ঢাকার কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে, চট্টগ্রাম গিয়ে, সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার পৌঁছতে হবে।

সুবর্ন এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, মহানগর প্রভাতী/ গোধূলি, তূর্না নিশীথা, মহানগর এক্সপ্রেস এই ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং চট্টগ্রাম, কর্নফুলি ও চট্টলা এক্সপ্রেস নামে তিনটি মেইল ট্রেন এই রুটে চলাচল করে। আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় ধীরগতিতে চলা এবং ছোট ছোট স্টেশনেও যাত্রাবিরতি নেয়ার কারনে মেইল ট্রেনে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে ৮-১০ ঘন্টা সময় লেগে যায়। আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতি সীটের ভাড়া পড়বে, শ্রেনী ভেদে ১৭৫-১১৭৯ পর্যন্ত।

আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর সময়সূচি নীচে দেয়া হলোঃ

সোনার বাংলা এবং সুবর্ন এক্সপ্রেস, এই ২টি ট্রেন যাত্রাবিরতিহীন ভাবে চলাচল করে বলে এগুলোতে খুব অল্প সময়ে চট্টগ্রাম পৌছানো যায়। ট্রেন দুটি যথাক্রমে সকাল ৭টা এবং বিকেল ৪.৩০ এ কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায়। এছাড়া মহানগর প্রভাতী সকাল ৭.৪৫ এ, মহানগর এক্সপ্রেস রাত ৯.২০ এ এবং তূর্না নিশীথা রাত ১১.৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে তাদের যাত্রা শুরু করে।

সুবর্ণ এক্সপ্রেস শুক্রবারে, সোনার বাংলা বুধবারে এবং মহানগর এক্সপ্রেস রবিবারে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখে। বাকী ট্রেন দুটি সপ্তাহের সাতদিনই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্যে নতুন ব্রীজ এলাকা অথবা দামপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অনেক বাস এভেইলেবল আছে, তবে একটু ভাল সার্ভিস পেতে চাইলে যেতে হবে গেইটলক বাসে। নন এসি বাসে যেতে চাইলে সীট প্রতি গুনতে হবে ৪২০-৭২০ টাকা পর্যন্ত। আর এসি বাসের ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০ টাকা।

এই রুটের জনপ্রিয় বাসগুলোর মধ্যে আছে পূরবি, মারসা আর স্বাধীন ট্রাভেলস এর বাস। স্বাধীন ট্রাভেলস ছেড়ে যায় দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে। বাকী ২টি বাসেই চান্দগাঁও থানার সামনে থেকে কিংবা নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে উঠা যায়। রেলস্টেশন থেকে সিএনজি তে নতুন ব্রীজ যেতে ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা।

এছাড়া মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কার ভাড়া করে, এমনকি বিমানেও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে বিমানে

আপনার সামর্থ্য থাকলে, সময় বাঁচাতে অবশ্যই বিমানে যাতায়াত করতে পারেন। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউ এস বাংলা অথবা নভোএয়ারে করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাতে আপনাকে গুণতে হতে পারে ৪,৫০০ থেকে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত! তবে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট!

উল্লেখ্য যে, দেশের ভেতর বিমানে ভ্রমণ করতে কোন পাসপোর্ট লাগেনা, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোন একটি ফটো আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাঞ্চনীয়। হতে পারে সেটা আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা বার্থ সার্টিফিকেট! 

থাকবেন কোথায়

যারা কয়েকটা দিন আরাম আয়েশের সঙ্গে থাকতে চান তারা বেছে নিতে পারেন পাঁচ তারকা হোটেল কিংবা রিসোর্ট গুলোকে। ভারা পড়বে এক রাতে ৬০০০-২৫০০০ পপর্যন্ত। এসব হোটেল/রিসোর্টের সাথেই প্রাইভেট বীচ থাকে বলে ভীড় বাট্টা কম থাকে। এদের মধ্যে মারমেইড, রয়্যাল টিউলিপ, সায়মন, ওশান প্যারাডাইস অন্যতম।

মধ্যম মানের কিছু হোটেল থেকেও সৈকতের সরাসরি কিংবা পার্শ্ব ভিউ পাওয়া যায়। এরকম হোটেলে এক রাত থাকতে গেলে খরচ করতে হবে ৩,০০০-৬,০০০ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে আছে এক্সোটিকা সাম্পান, হোটেল সীগাল, সী ক্রাউন, সী প্যালেস, কক্স টুডে, নিসর্গ হোটেল এবং রিসোর্ট ইত্যাদি।

আর যারা একটু কম বাজেটের হোটেল চান তাদের জন্যেও আছে অনেক অনেক অপশন। ৮০০-৩০০০ টাকার মধ্যে প্রচুর হোটেল/মোটেল রয়েছে, যেগুলো সৈকত থেকে একটু দূরে হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য হোটেল গুলোর মধ্যে আছে হোটেল প্রাইম পার্ক, হোটেল সী মুন, ডিভাইন ইকো রিসোর্ট, হোটেল কল্লোল, অভিসার, নীলিমা রিসোর্ট ইত্যাদি।

এরথেকে কম ভাড়ায়ও হোটেল/মোটেল পাওয়া যায়, বীচ থেকে যত দূরে থাকবেন, ভাড়াও তত কম পরবে। এছাড়াও বড় পরিবার নিয়ে গেলে, কক্সবাজারে বিভিন্ন সার্ভিস এপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ রয়েছে। আগে থেকে খোঁজ খবর নিয়ে বুক করে গেলে সেখানে কিচেন সহ অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন। ভাড়া পরবে ২০০০-১৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

খাবেন কোথায়

আমরা বাঙালিরা বরাবরই ভোজনরসিক, ঘুরতে গিয়ে মনের মত খাওয়া দাওয়া করাও আমাদের ভ্রমণের একটা অংশ। 

তিন তারকা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেল বা রিসোর্ট গুলোতে, কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট সার্ভিস থাকে। অনাবাসিক যেকেউও এই সার্ভিস কিনে খেতে পারবেন। বাইরের হোটেল গুলোর মধ্যে সকালের নাস্তার জন্যে বিখ্যাত কলাতলীতে অবস্থিত শালিক, ধানসিঁড়ি, নিরিবিলি ইত্যাদি রেস্টুরেন্ট।

দুপুর বা রাতের খাবারের জন্যে বেছে নিতে পারেন যেকোন রেস্টুরেন্টকেই। উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্ট গুলোর মধ্যে আছে কলাতলীতে অবস্থিত শালিক, ধানসিঁড়ি, নিরিবিলি, কাশফুল, স্যান্ডি বীচ রেস্টুরেন্ট, তরঙ্গ, রুপসী বাংলা ইত্যাদি ঝাউতলার দুটি বিখ্যাত রেস্টুরেন্টের নাম সবার মুখেই শোনা যায়, পউশী ও ঝাউবন রেস্টুরেন্টের রুপচাঁদা ভুনা কিংবা লইট্টা মাছের ফ্রাই এর স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতই এছাড়া লাবনী পয়েন্টে কাসুন্দি, সুগন্ধা বীচে কড়াই, দারুচিনি, আল গনি,  ইত্যাদি রেস্টুরেন্টেও খেয়ে দেখতে পারেন

সমুদ্র এলাকায় যাবেন আর সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ খাবেন না, তা তো হতেই পারেনা। এখানে অবস্থিত প্রায় সকল তিন থেকে পাঁচ তারকা হোটেল গুলোতেই বারবিকিউ এর ব্যাবস্থা থাকে, তবে একটু আগে থেকে বুক করে রাখতে হবে। এছাড়া সুগন্ধা বীচের আশে পাশে প্রচুন রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ খাওয়ার ব্যাবস্থা আছে। রাতে বারবিকিউ করতে চাইলে, অন্তত সকালের মধ্যে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে।

এছাড়া সৈকতের আশেপাশেই প্রচুর স্ট্রিট শপ পাবেন, ফিশ ফ্রাই খাওয়ার জন্যে আর এই ফুডশপ গুলোতে,  রাত ১২ টার পর প্রায় অর্ধেক দামে ফিশ ফ্রাই বিক্রি হয়। সামর্থ্য থাকলে, বিভিন্ন হোটেল/রিসোর্টের ক্যান্ডেল লাইট ডিনারও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

ইনানির দিকে গেলে পালংকি রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন, দাম একটু বেশি হলেও খাবারের মান ভাল। মারমেইড ক্যাফেতে একবেলা খাওয়াটা অনেকেই মিস করতে চান না, এখানকার জ্যুসের প্রশংসা সবার মুখেমুখে 

কোথায় ঘুরবেন

কক্সবাজার গিয়ে আপনি চাইলে শুধু সমুদ্রটাকেই মনের মত করে উপভোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময়টা, অবশ্যই সৈকতে বশে উপভোগ করার চেষ্টা করবেন। পুর্নিমা রাত হলে, চেষ্টা করবেন রাতের বেশ খানিকটা সময় সৈকতে বসে কাটাতে। অসাধারণ অনুভূতি হবে, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। 

কক্সবাজারের প্রধান ৩টি সমুদ্র সৈকতের নামলাবনী, সুগন্ধা এবং কলাতলী বীচ ৩টি বীচই একদমই কাছাকাছি অবস্থিত, চাইলে পায়ে হেটেই একটা থেকে আরেকটায় যেতে পারবেন। এছাড়াও আরো কিছু বীচ এবং দর্শনীয় স্থান রয়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- 

  • হিমছড়ি ঝর্ণা
  • ইনানি সমুদ্র সৈকত
  • রামু বৌদ্ধ বিহার
  • মহেশখালী 
  • কুতুবদিয়া
  • পাটোয়ারটেক
  • সেন্টমার্টিন

লোকাল ট্যুর গ্রুপের সাথে প্যাকেজে এসব স্থান ঘুরে আসা যায়।

নিজের মত ঘুরতে চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদের গাড়ি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি, অটো রিকশা এমনকি বাইক  ভাড়া করেও এসব স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন

হিমছড়ি থেকে একটু সামনে আগালেই প্যারাস্যুট পয়েন্ট, সেখানে গিয়ে প্যারাসেইলিং করতে পারবেন

সাথে বাচ্চা থাকলে ঘুরে আসতে পারেন, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড এ

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • বিপদে আপদে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিতে ভুলবেন না।
  • হটলাইন +৮৮০১৭৬৯ ৬৯০৭৪০
  • সাগরে নামার আগে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিবেন
  • হোটলে বুক করার আগে রিভিউ জেনে নিবেন
  • রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করার আগে দাম জেনে নিবেন
  • কোনকিছু কেনাকাটা থেকে শুরু করে যাতায়াত ভাড়া, সবক্ষেত্রেই আগে দাম ঠিক করে নিতে ভুলবেন না
  • বীচ ফটোগ্রাফারদের দিয়ে ছবি তোলার আগে দাম এবং ছবির সংখ্যা ঠিক করে নিবেন
  • কম খরচে ভ্রমণ করতে অফ সিজনে ভ্রমণ করবেন

ছবিঃ এহসান রহমান


শেয়ার করুন সবার সাথে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!