লরেল হিলস পার্ক

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান মৌলভীবাজার। মৌলভীবাজারে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা বাগান এর মতো দর্শনীয় স্থান। এই মৌলভীবাজারে রয়েছে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু লরেল হিলস পার্ক। বছরজুড়ে  শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, পরিবারসহ ভ্রমণপিপাসু নানা গোষ্ঠী এবং  অফিস, স্কুলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পিকনিক গ্রুপের ভীড়ে সরগরম থাকে এই পার্ক। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে সাজানো প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম নানা বিনোদনের উপায়ে পুরো পার্ক সুসজ্জিত। 

লরেল হিলস পার্কের অবস্থান

পার্কটি মৌলভীবাজার থেকে মাত্র ২ কি:মি: দূরে কালেঙ্গা রোড, সোনাপুরে অবস্থিত। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে দেড় কি:মি: পূর্বে গেলেই দেখা মেলে এই পার্কটর।

লরেল হিলস পার্ক খোলার সময়

সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত প্রতিদিন পার্ক্টি উন্মুক্ত থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। 

প্রবেশের টিকেট মূল্য

পার্কে জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ৬০ টাকা। পিকনিকের উদ্দেশ্যে প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

লরেল হিলস পার্ক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পার্ক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। শীতকালে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে। বর্ষাকালে সবুজ পরিবেশ সুন্দর হলেও পিচ্ছিল থাকার কারণে সতর্কতা প্রয়োজন।

পার্কটির ভেতরে যা রয়েছে

বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই পার্কটি যেনো গাছপালা আর রঙিন ফুলের সাজানো সজ্জিত বাগান। পার্কে ঢুকেই দেখা মেলে ওয়ান্ডার হুইল নামক একটি রাইডের। রয়েছে একটি ব্রীজ যার ছাউনি হিসাবে ব্যাবহৃত হয়েছে অনেক অনেক রঙিন বাহারী ছাতা।

ভেতরে রয়েছে পার্কের নিজস্ব কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, পুকুর, লেক, সুইমিং পুল,ক্যান্টিন, রেস্টুরেন্ট, প্লেজোন সহ বিভিন্ন জায়গায় বসার অনেকগুলো ছাউনী এবং বেঞ্চ। পার্কে রয়েছে রং বেরংয়ের পাথর দিয়ে বানানো একটি বড় ঝর্ণা। ঝর্ণাটি দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক পরিবেশের এক শান্তি দেয়।

শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদন দিতে রয়েছে কিডস জোন। কীডস জোনে টিকেট কেটে প্রবেশ করলে রয়েছে ওয়ান্ডার হুইল, বাম্পার কার, ছোট-বড় দোলনা, মিনি ট্রেন, সী স, চড়কিসহ জনপ্রিয় রাইডগুলো। বড়দের জন্যেও বিনোদন দেয়ার রাইডস রয়েছে। অন্যরকম বিনোদনের উপায় হিসাবে একমাত্র এই পার্কেই রয়েছে অল্প খরচে নিরাপদ জিপ লাইনিং এবং টি টপের মতোন অ্যাডভেঞ্চার এর সুযোগ। 

বনলতা সেতু নামে সাজানো একটি ব্রীজ নিয়ে যায় ছোট্ট একটি বনের ভেতর। ব্রীজ আর বনটিকে সাজানো হয়েছে ভৌতিক থীমে। ভৌতিক বাজনা আর ছবি দিয়ে ভূতপ্রেমীদের উপযোগী করা হয়েছে কাঠের এই বনলতা ব্রিজ আর বনটিকে।

অদ্ভুত অভিনব কায়দায় এই পার্কের একটি গাছে বসানো হয়েছে কৃত্রিম পাখির একটি বাসা। যেটি মূলত একটি স্পিকার। এই স্পিকারে সেট করা আছে পাখির কলকাকলি। গাছটির চারপাশে পুরো এলাকা এই পাখির কলকাকলিতে কিচিরমিচিরময় হয়ে থাকে।

পুরো পার্কটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। পার্কের আরও একটি বিশেষ জায়গা হলো আমাদের ঐতিহ্যবহনকারী একটি ছোট ঢেকি। দর্শনার্থীরা ছবি তুলতে বেশ উপভোগ করে এই ছোট্ট ঐতিহ্যের বাহক স্মৃতিচিহ্নটিকে। বর্ষায় বা পানির সময়ে নৌকা রাইডের ব্যাবস্থা করা হয় ছোট্ট লেকে।

মোটামুটিভাবে এগুলো নিয়েই মৌলভীবাজারের এই পর্যটন কেন্দ্রটি সাজানো। এই সবকিছুর পাশাপাশি পুরো পার্কজুড়েই রয়েছে হাতি, জিরাফ, বাঘ, সিংহ, ডাইনোসর সহ অনেক অনেক জীবজন্তুর সিমেন্টে বানানো বড় বড় প্রতিকৃতি। বাচ্চাদের জন্য যা খুবই উপভোগ্য। 

পার্কটির প্রধান আকর্ষণ ও সুবিধা

রাইড ও বিনোদন: শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড, জিপলাইন এবং দোলনা রয়েছে ।
সুইমিং পুল: পার্কে একটি সুইমিং পুলের সুবিধা রয়েছে ।
পিকনিক ও ইভেন্ট: পিকনিক স্পট হিসেবে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্পট। এছাড়া এখানে কর্পোরেট প্রোগ্রাম, বিয়ে, গায়ে হলুদ বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রাকৃতিক পরিবেশ: পার্কটিতে সুন্দর বাগান ও খোলা লন আছে। এবং পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
অন্যান্য সুবিধা: এখানে রেস্টুরেন্ট এবং টয়লেটের সুব্যবস্থা রয়েছে। পার্কটি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

পার্কে যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে মৌলভীবাজার ও সিলেটগামী এসি কিংবা নন এসি বাসে ৬/৭ ঘন্টার যাত্রায় মৌলভীবাজার। সেখান থেকে কুসুমবাগ বা চৌমহনা সহ মৌলভীবাজারের যেকোন জায়গা থেকে সহজেই যাওয়া যায় কোর্ট রোড, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ। সেখান থেকে ১৫/- জনপ্রতি সি এন জি দিয়ে সরাসরি পার্কে। অথবা সোনাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া লোকাল বাসগুলোতে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে যা নামিয়ে দেয় লরেল হিলস পার্কের কাছাকাছি। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বা রিকশায় একদম লরেল হিলস পার্কের ফটকের সামনে।

এছাড়া ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার/সিলেটগামী ট্রেনে মৌলভীবাজার পৌঁছে একই উপায়ে পৌঁছানো যায় লরেল হিলস পার্ক।

যোগাযোগের  ঠিকানা  ও নাম্বার 

ঠিকানা: সোনাপুর (দেওরাছড়া রোড),মৌলভীবাজার সদর, মৌলভীবাজার। এটি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে প্রায় ১.৫ কিমি পূর্ব দিকে অবস্থিত ।
মোবাইল: +৮৮০ ১৭৬৫-২৩৪১৩১, +৮৮০ ১৭৬৫-২৩৪১৩০
ইমেইল: laurelhillspark8@gmail.com
ফেসবুক পেজঃ https://www.facebook.com/lorelhillspark/

পাহাড়ি প্রকৃতিতে চা বাগান উপভোগ ই ছিলো একসময় সিলেটের একমাত্র আগ্রহের জায়গা। এখন সেই আগ্রহ পুরো সিলেটের নানা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিভক্ত হয়ে পাহাড়, প্রকৃতি আর আধুনিক এবং কৃত্রিম বিভিন্ন বিনোদনকে একসাথে করেছে। ফলে জমজমাট হয়েছে সিলেটের পর্যটন বাণিজ্য। আর নিজেদের দেশের এই অদ্ভূত সুন্দর করে সাজানো পার্কটি এখন পরিণত হয়েছে সকল ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীদের একটি সুন্দর দিন কাটানোর জন্য অতি উপযোগী বিকল্প।

লরেল হিলস পার্ক সম্পর্কে আরও জানুন 

  • লরেল হিলস পার্ক কি প্রতিদিন খোলা থাকে?

হ্যাঁ, লরেল হিলস পার্ক প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। বিশেষ দিন অথবা সরকারি ছুটির সময়ে সময়সূচী পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সময়সূচী জেনে নিলে ভালো হয়।

  • পিকনিক বুকিং কীভাবে করবেন?

লরেল হিলস পার্কে পিকনিক বুকিং করার জন্য আগে থেকেই পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বুকিংয়ের তারিখ, সদস্য সংখ্যা এবং সময় উল্লেখ করে    ফোনে বা সরাসরি পার্ক অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে পিকনিক বুকিংয়ের জন্য জনপ্রতি আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়। খাবার,বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। ভিড় এড়াতে অন্তত কয়েক দিন আগে থেকে বুকিং দিলে সুবিধা হবে।

  • শিশুদের জন্য কোন রাইড সবচেয়ে জনপ্রিয়?

শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইডগুলো হলো ওয়ান্ডার হুইল, বাম্পার কার, জিপলাইনিং, ছোট-বড় দোলনা, মিনি ট্রেন ও সি সি (চড়কি)

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট
  • শ্রীমঙ্গলের চা জাদুঘর ও চা বাগান
  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  • হাম হাম জলপ্রপাত
  • মাধবপুর লেক
  • বাইক্কা বিল (হাইল হাওর)
  • লাউয়াছড়া ইকো পার্ক
  • হাকালুকি হাওর
  • মনিপুরি পল্লী
  • গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ
  • দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা
  • টি হেভেন রিসোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!