ফয়েজ লেক ভ্রমণ গাইড ২০২৬ – টিকিট মূল্য, সময়সূচী, রাইড ও ভ্রমণ টিপস

ফয়েজ লেক

ফয়েজ লেক (Foy’s Lake) চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল, যা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের  কাছে বেশ আকর্ষণীয়। এর শান্ত জল আর ফয়েজআশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ষাকালে অনেক মনমুগ্ধকর হয়ে উঠে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো ফয়েজ লেক কোথায় অবস্থিত,ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন ও কি খাবেন, পার্ক প্রবেশের সময়সীমা ও টিকিটমূল্য ইত্যাদি । সেই সাথে আরও জানবো এখানে কি কি রাইড আছে, কোনটার টিকিট মূল্য কত। তাই, অনুরোধ রইল ধৈর্য্য সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার। 🙂

ফয়েজ লেক কোথায় অবস্থিত ?

ফয়েজ লেক(Foy’s Lake) পাহাড়তলী রেলস্টেশনের অদূরে, চট্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে, বাটালী হিলের কাছে অবস্থিত। এর আশেপাশে পাহাড় ও সবুজে ঘেরা চমৎকার পরিবেশ, ওয়াটার পার্ক(Sea World) এবং বিনোদন পার্ক রয়েছে। পাহাড়বেষ্টিত এলাকায় অবস্থান করায় এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা (Foy’s Lake) প্রায় ৩৩৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, এই লেকটি পাহড়ের দুই শীর্ষের মাঝখানে থাকা একটি সরু উপত্যকায় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে। লেকের পাশেই রয়েছে শহরের সবচেয়ে উচুঁ বাটালি হিল(Batali Hil)। লেকের শান্ত পরিবেশ ও চারপাশের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য ফয়েজ লেককে চট্টগ্রামের একটি দর্শনীয় জায়গায় পরিণত করেছে।

ফয়েজ লেক ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি ?

ফয়েজ লেক ভ্রমণের সেরা সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে, যা ভ্রমণকে আরামদায়ক ও উপভোগ্য করে তোলে। শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক ও ঠান্ডা থাকে, যা ঘোরাঘুরি ও রাইড উপভোগের জন্য বেশ ভালো।এছাড়া বর্ষার ঠিক পরপরই (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ) মাসে প্রকৃতির রূপ সবচেয়ে সতেজ ও সবুজ থাকে, এই সময়েও ভ্রমণ বেশ আনন্দদায়ক হয়।

দিনের বেলা, বিশেষ করে সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্য পড়ন্ত বিকেল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়(সন্ধ্যা ৬টা বা তার কিছু আগে)। এছাড়া বিকেল এর সময়ে লেকের পাড়ে বসে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পুরো পার্ক, চিড়িয়াখানা, ওয়াটার পার্ক(Sea World) ভালোভাবে ঘুরে দেখার জন্য সকাল সকাল যাওয়াই সুবিধাজনক।

ফয়েজ লেক খোলা ও বন্ধের সময় কখন ?

ফয়েজ লেক প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০/৭:০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে লেক রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। লেক ও সংলগ্ন অ্যামিউজমেন্ট পার্কটি প্রতিদিন দর্শনাথীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

প্রবেশ ও টিকিট মূল্য কত ?

চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক কনকর্ড ও সি ওয়ার্ল্ডের(Sea World) টিকিট মূল্য প্যাকেজ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। বর্তমানে (জানুয়ারি/মার্চ ২০২৬) বিশেষ অফারে ফয়েজ লেক এন্ট্রি, সী ওয়ার্ল্ড এন্ট্রি, এমন অনেকগুলো প্যাকেজ আছে। বিশেষ দিন(যেমন:ঈদ) বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টিকিটের দাম সাধারণত বেশি হতে পারে। 

শুধু প্রবেশ টিকেট 

সাধারনত প্রবেশ টিকিট জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

প্রবেশ ও রাইড প্যাকেজ

এই টিকিটে পার্কের প্রবেশ এবং ৫টি রাইড এবং আইসক্রিম অন্তর্ভুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে ৫০০ টাকার প্যাকেজ রয়েছে।

সী ওয়ার্ল্ড(Sea World)(ওয়াটার পার্ক)

 সী ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ এবং সব ওয়াটার রাইড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই প্যাকেজে। এক্ষেত্রে ৫০০-৭০০ টাকার প্যাকেজ আছে।

ফয়েজ লেক ও সী ওয়ার্ল্ড কম্বো প্যাকেজ

রাইড ও এন্ট্রিসহ এই প্যাকেজ মূলত  ৬০০-৭০০ /- বা তার বেশি হয়ে থাকে।

ফয়েজ লেকের প্যাকেজ সমূহ

ফয়েজ লেক ড্রাইভ পার্ক এন্ট্রি+ ৫টি রাইড, ওয়াটার পার্ক (Sea World), (ফয়েজ লেক+ সী ওয়ার্ল্ড), কর্পোরেট বা স্টুডেন্টস, বেস ক্যাম্প প্রভৃতি প্যাকেজ রয়েছে। 

যাবেন কিভাবে ?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বাসে 

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সাধারণত বাস, ট্রেন বা বিমানে করে আসতে  পারবেন। চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকার কমলাপুর বাস টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি এবং সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে অনেক এসি (৮৫০-১১০০) টাকা ও নন এসি বাস চলে। এছাড়া সায়দাবাদ বাসস্টেশন থেকে গ্রিনলাইন, টি আর, সৌদিয়া, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক ইত্যাদি বাসে করে আপনি চট্টগ্রাম আসতে পারবেন। সাধারণ বাসে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা যেমন: আর এস আলম, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহণ।

ঢাকা থেকে ট্রেনে 

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। 
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনগুলোর ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নিচে দেওয়া হলো। 

ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী

ট্রেনের নাম ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় চট্টগ্রাম পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটির দিন
পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) সকাল ০৬:১৫ সকাল ১১:২০ রবিবার
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮) সকাল ০৭:০০ সকাল ১১:৫৫ বুধবার
মহানগর প্রভাতী (৭০৪) সকাল ০৭:৪৫ দুপুর ০১:৩৫ নাই (প্রতিদিন চলে)
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) দুপুর ০১:৪৫ রাত ০৮:১০ শুক্রবার
সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭M২) বিকালে ০৪:৩০ রাত ০৯:২৫ সোমবার
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) রাত ০৯:২০ রাত ০৩:৩০ (পরদিন) রবিবার
কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) রাত ১০:৩০ রাত ০৩:৪০ (পরদিন) সোমবার
চট্টগ্রাম মেইল (০২) রাত ১০:৩০ সকাল ০৭:২৫ (পরদিন) নাই (প্রতিদিন চলে)
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) রাত ১১:১৫ ভোর ০৫:১৫ (পরদিন) নাই (প্রতিদিন চলে)

*বিশেষ দ্রষ্টব্য: রেলওয়ের যেকোনো ধরনের জরুরি সিদ্ধান্ত বা বিশেষ কারণে এই সময়সূচী সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। নিরাপদ ও নিশ্চিত যাত্রার জন্য সবসময় ভ্রমণের পূর্বে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করে টিকিট বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

অন্যদিকে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস,  সপ্তাহের শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১০ টা ০০ মিনিটে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এক্ষেত্রে ৪৫০-১৫০০ টাকা ভাড়া পড়বে।

টিপস: পূর্বে চলাচলকারী ‘জালালবাদ এক্সপ্রেস’ মেইল ট্রেনটি বর্তমানে বন্ধ থাকায় তা প্যারাগ্রাফ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

ঢাকা থেকে বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স—বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, নোভোএয়ার এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনা করে। আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ভ্রমণে সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ মিনিট সময় লাগে। বর্তমানে এই রুটে ওয়ান-ওয়ে (One-way) বিমান ভাড়া এয়ারলাইন্স ও সময়ভেদে সাধারণত ৪,৫০০ টাকা থেকে ৫,৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে উৎসব বা পিক-সিজনে এই ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে ফয়েজ লেক

চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি অটোরিকশা, লোকাল বাস বা রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই পাহাড়তলী ফয়েজ লেকে যাওয়া যায়। চট্টগ্রামের রেলস্টেশন রোড বা টাইগারপাস থেকে ফয়েজ লেকের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। আপনি যদি স্টেশন রোড বা টাইগারপাস থেকে সরাসরি রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে যেতে চান, তবে সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ভাড়া পড়তে পারে। এছাড়া কাছাকাছি এলাকা যেমন জিইসি মোড় বা খুলশী থেকে সরাসরি রিকশা নিয়েও ফয়েজ লেকের মূল গেটে পৌঁছানো সম্ভব।

ফয়েজ লেকে দেখার কি কি আছে ?

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও লেকঃ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকের শান্ত পরিবেশ এবং পাহাড়ের ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখা খুবই মনোরম।

অ্যামিউজমেন্ট পার্ক (Foy’s Lake Concord)ঃ  ফয়েজ লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড একটি সুপরিচিত ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডলি থিম পার্ক। এই পার্কে রাইড, বোট রাইড, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁসহ নানা বিনোদন সুবিধা আছে, যা প্রতিদিন সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে।

সী-ওয়ার্ল্ড (Sea World)ঃ এটি একটি ওয়াটার পার্ক, যেখানে ওয়াটার কোস্টার রাইডার, স্প্ল্যাশ পুল এবং নানা রকম ওয়াটার গেম রয়েছে।

বেস ক্যাম্পঃ ফয়েজ লেক বেস ক্যাম্প এর প্রধান আকর্ষণ পাহাড় ও লেকের মাঝে অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পিং। এখানে ওয়াটার জিপলাইন, ছোট সুইং, জায়ান্ট সুইং এবং পেইন্টবল খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।

বাটালি হিলঃ বাটালি হিল  প্রায় ২৮০ ফুট উচুঁ, এই হিল চট্টগ্রাম শহরের একাংশ এবং দূরে বঙ্গোপসাগরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায় আর সর্বোচ্চ চূড়াটি ‘শতায়ু অঙ্গন’ নামে পরিচিত।

থাকবেন কোথায় ?

চট্টগ্রামে অনেক ধরনের হোটেল রয়েছে, এর মধ্যে এশিয়ান এসআর হোটেল এসি ১৭২৫ টাকা এবং নন-এসি ১০০০ টাকা( সিঙ্গেল) ভাড়া পড়ে। সাফিনা হোটেলে ভাড়া ৭০০/- থেকে শুরু, এসিসহ ১৩০০ টাকা পড়ে। এছাড়া হোটেল ল্যান্ডমার্কে ২৩০০-৩৪০০ টাকা এবং নাবা ইন হোটেলে ২৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া পড়ে।

খাবেন কোথায় ?

ফয়েজ লেক রিসোর্ট এলাকায় বেশ কিছু ভালো মানের রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর মধ্যে ফয়েজ লেক রিসোর্ট রেস্তোরাঁ, অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড রেস্তোরাঁ এবং লেক ভিউ রেস্তোরাঁ রয়েছে। এইসকল রেস্তোরাঁয় থাই, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান ও বাঙালি খাবারসহ দ্রুত পরিবেশনযোগ্য ফাস্ট ফুড পাওয়া যায়। 

যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার 

ঢাকা অফিস    :  8833786, 01913-531386,9896482

চট্টগ্রাম অফিস:  01913-531554, 01913-531480, 031-2566080

ওয়েবসাইট     :   www.foyslake.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!