বেতিলা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড

Betila Zomidar Bari

এক নজরে আর্টিকেলের শিরোনামসমূহ

বেতিলা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পুটাইল ও বেতিলা মিতরা ইউনিয়নে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপনাটি এর রহস্যময়ী ইতিহাস, চমৎকার ইউরোপীয়ান স্থাপত্যশৈলী এর জন্য সুপরিচিত। ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য ঢাকা থেকে একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি একটি আর্কষণীয় গন্তব্য।

বর্তমানে বেতিলা জমিদার বাড়ি সরকারি ব্যবস্থাপনা ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত দুটি পাশাপাশি অবস্থিত দুই-তলা ভবন। মূল ভবনের দুই-তলায় লোহার চমৎকার কারুকার্য করা ঝুলন্ত বারান্দা আছে, যা তৎকালীন আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন। এছাড়া জমিদার বাড়ির ভিতরে বড় দুটি পুকুর এবং কারুকার্য খচিত চারটি সানবাঁধানো ঘাট আছে। ভবনের সামনে আছে বড় বড় বৃত্তাকার পিলার এবং খিলানযুক্ত জানালা।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, বেতিলা জমিদার বাড়ি কোথায় ও এর ইতিহাস কী। পাশাপাশি জানবো বেতিলা জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবো এবং সেখানে কোথায় খাবো। আপনি যদি বেতিলা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ করতে চান বা বেতিলা জমিদার বাড়ি সম্পর্কে জানতে চান তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

বেতিলা জমিদার বাড়ি কোথায় ?

বেতিলা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত। ছিমছাম ও সবুজে ঘেরা এই গ্রামের মাঝখানে দিয়ে বয়ে গেছে বেতিলা খাল। বেতিলা খাল ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীকে একসাথে যুক্ত করেছে। বেতিলা জমিদার বাড়ি ঢাকা থেকে মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় একদিনের ভ্রমণের জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি স্থান।

বেতিলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস কী ?

আনুমানিক উনিশ শতকের শেষের দিকে কলকাতার বণিক জ্যােতি বাবু ও সত্য বাবু পাটের ব্যবসার সুবিধার জন্য এই বেতিলা জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। বেতিলা জমিদার বাড়ি কোনো রাজপরিবারের বা জমিদারের প্রাসাদ না। বাড়িটির জাঁকজমক ও বিশালতার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে থেকে এটি জমিদার বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এইসময়ে বেতিলা খাল ছিল অত্যন্ত খরস্রোতা, আর এর মাধ্যমে বড় বড় মহাজনী নৌকা যাতায়াত করত। এই নদীপথের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে  ব্যবসার সুবিধায় বাসস্থান গড়ে তোলা হয়। মূলত কলকাতার মূল ব্যবসা ও বাড়ির একটি শাখা ছিল এই বেতিলা জমিদার বাড়ি।

কিভাবে যাবেন ?

বেতিলা জমিদার বাড়ি ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বে হওয়ায় বাস যাত্রা বেশ সুবিধাজনক। ঢাকা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে (মানিকগঞ্জ এক্সপ্রেস, ডিএন ট্রাভেলস, নীলাচল পরিবহন, সেলফি পরিবহন, সেঁজুতি পরিবহন) ইত্যাদি মানিকগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুই ধরনের বাস রয়েছে যেমন: 

  • এসি বাস ১৫০ টাকা (জনপ্রতি)
  • নন-এসি বাস ১২০ টাকা (জনপ্রতি)

ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ বাসে পৌঁছাতে ১:৩০ মিনিট থেকে ২ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। এরপর মানিকগঞ্জ বাস-স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে বেতিলা জমিদার বাড়ি পৌঁছানো যায়। সিএনজি রিজার্ভ করলে ১৫০-২০০ টাকায় সরাসরি জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন। এছাড়া লোকাল সিএনজি বা অটো-রিকশায় ২০-৩০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া পড়বে।

কোথায় খাবেন ? 

বেতিলা জমিদার বাড়ির ভিতরে বা আশেপাশে তেমন কোনো ভালো মানের রেস্টুরেন্ট নেই। তবে মানিকগঞ্জ সদর ও বেউথা ব্রিজ এলাকায় বেশ কিছু উন্নত মানের রেস্টুরেন্ট আছে। বেউথা ব্রিজের ঠিক পাশে কালিগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত উডেন স্পাইস এবং পার রেস্টুরেন্ট। উডেন স্পাইস রেস্টুরেন্ট এর গরুর মাংসের খিচুড়ি বেশ জনপ্রিয়, সম্ভবত ২০০-৪০০ টাকা (জনপ্রতি) এর মধ্যে পাওয়া যায়। আরও কিছু খাবার জায়গা আছে (যেমন: প্লান বি, দ্য জিরো ডিগ্রি, কাচ্চি ডাইন) ইত্যাদি।

এছাড়া বেতিলা বাজার ও বেতিলা বাস-স্ট্যান্ড এলাকায় মাঝারি মানের কিছু খাবার জায়গা আছে। যেমন: মেঘ বাড়ি ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, পেটুক চটপটি ও ফুসকা, নিজামের মিষ্টি। তেরশ্রী গ্রামে ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নিজামের মিষ্টির স্বাদ অবশ্যই নিন। এখানকার মিষ্টি খেতে মানিকগঞ্জ ভ্রমণকারী অনেক পর্যটকেরা আসেন।

এই পোস্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে নিচের স্টারগুলোতে ক্লিক করুন।

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

এখনও কোনো রেটিং পড়েনি। আপনিই প্রথম রেটিং দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!