নাগরিয়াকান্দি গোল্ডেন স্টার পার্কটি কোথায় ?
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের জেলা শহর নরসিংদী থেকে মাত্র সাড়ে পাঁচ কি. মি. দূরে নাগরিয়াকান্দি ব্রিজের ঠিক ওপারেই অবস্থিত ‘গোল্ডেন স্টার পার্ক’। মেঘনা নদীর কোল ঘেষে এর অবস্থান, গঠনশৈলী, প্রাকৃতিক সান্নিধ্য আর ফুলের সমারোহের জন্য সহজেই ভ্রমণ পিপাসুদের মন কারে। ঢাকার কাছে এমন সানফ্লাওয়ার গার্ডেন সমৃদ্ধ টুরিস্ট স্পটে কে না ঘুরতে চাইবে? আর হ্যাঁ, আজ আমরা জানবো নতুন এই পার্কটির বিস্তারিত।
বছরের কোন সময়টাতে যাবেন ?
নাগরিয়াকান্দি গোল্ডেন স্টার পার্ক’টি সারা বছর ও সপ্তাহের সাত দিনই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে পার্কটির মূল আকর্ষণ সানফ্লাওয়ার গার্ডেন ও বিদেশি রঙবেরঙের বাহারী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগে করতে চাইলে জানুয়ারি-মার্চের বা শীতের সময়টা সবচেয়ে উপযোগী। এ সময় ভ্রমণ করে বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করতে পারেন।
তবে ছুটিরদিনগুলোতে বা শুক্র-শনিবার দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই যারা একটু নিরিবিলি ঘুরতে পছন্দ করেন তারা সপ্তাহের অন্যদিনগুলো বেছে নিতে পারেন।
শীতকালে ছবি তোলার জন্য সকাল ৯টা–১১টা ও বিকেল ৪টা–৫:৩০টা সবচেয়ে ভালো সময়। এ ভালো আলো পাওয়া যায় ছবি তোলার জন্য।
কোনো ইভেন্ট, অনুষ্ঠান বা পিকনিকের জন্য আগেই বুকিং দেবার জন্য নিম্নোক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।
যোগাযোগের নাম্বার : ০১৯১৫-৬৭৬৬৫৭ ও ০১৯৪৯-১১৫০০৫
পার্কে প্রবেশের সময়সূচী ও টিকিটের মূল্য
পার্কে প্রবেশের পূর্বে আপনাকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা ফি দিয়ে প্রধান গেট সংলগ্ন টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত ৩ বছরের বেশি সব বয়সীদের জন্য টিকিট প্রযোজ্য। তাছাড়া পার্কটি জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে সকাল ৮টা থেকে ঠিক রাত ৮টা অবধি।
সকাল বেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে তাই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝামেলাও হয় কম। তবে বিকেল থেকে দর্শনার্থীর ভীর বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রবেশের সময়টা নির্ভর করবে একান্ত আপনার সুবিধার উপর। তাছাড়া আপনাদের ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস বা অন্যান্য বাহনের পার্কিং-এ সুব্যবস্থা রয়েছে।
বড় গ্রুপ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাঝে মাঝে আলাদা গ্রুপ এন্ট্রি সুবিধা থাকে। তাই আগে ফোনে জেনে নেওয়া ভালো।
রাইড ও বিনোদন সুবিধা
ছোটো-বড় সবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন রাইড । তারমধ্যে জনপ্রিয় – প্যারাট্রুপার, ফ্রিজ বি, বোট রাইড, কিডস ট্রেন, রেসিং কার, ডিজে নৌকা, নাগরদোলাসহ আরও অনেক। তবে প্রতিটি রাইডের জন্য টিকিট মূল্য ৫০/-।
বি. দ্র সপ্তাহান্তে জনপ্রিয় রাইডগুলোতে রাইড করার জন্য ১০–২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতে পারে।
রাইডের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা :
- বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সহজ ও নিরাপদ রাইড বেছে নিন।
- ডিজে নৌকা, নাগরদোলা, প্যারাট্রুপার রাইডে সাবধনতা অবলম্বন করুন।
- কেনো রাইডে বাচ্চাকে একা ছাড়বেন না।
📍 যাবেন কীভাবে? (ঢাকা থেকে নাগরিয়াকান্দি / গোল্ডেন স্টার পার্ক)
নাগরিয়াকান্দি নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকা। ঢাকা থেকে নাগরিয়াকান্দির দূরত্ব আনুমানিক ৫৫–৭৫ কিলোমিটার, যা যানবাহন ও রুটভেদে ভিন্ন হতে পারে। যানজট না থাকলে সাধারণত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে।
🚌 বাসে করে যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে নরসিংদীগামী বাসে খুব সহজেই নাগরিয়াকান্দিতে পৌঁছানো যায়। গুলিস্তান, সায়দাবাদ, মহাখালী, বনানী ও কমলাপুর এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে সকাল ৬টা থেকে সারাদিন নন-এসি বাস পাওয়া যায়।
বাস ভাড়া সাধারণত ১৪০–১৮০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে (সময় ও বাসভেদে ভিন্ন হতে পারে)। নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ বা পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে নেমে অটোরিকশা বা সিএনজিতে করে নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ পার হয়ে সরাসরি গোল্ডেন স্টার পার্কের গেটে এসে নামবেন। অটোরিকশা ভাড়া আনুমানিক ৫০–৮০ টাকা।
টিপস: ভ্রমণের সুবিধার জন্য সকাল বেলার বাস বেছে নেওয়া ভালো।
🚆 ট্রেনে করে যাওয়ার উপায়
যারা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ পছন্দ করেন, তারা ট্রেনে করেও যেতে পারেন। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন নরসিংদীগামী একাধিক ট্রেন চলাচল করে।
নরসিংদী স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে নাগরিয়াকান্দির দিকে যাওয়া যায়। ট্রেনভেদে ভাড়া আনুমানিক—
-
শোভন শ্রেণি: ৮০–৯০ টাকা
-
চেয়ার কোচ: ১২০–১৩০ টাকা
-
এসি: ১৭০–২০০ টাকা
নোট: ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারে, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ শিডিউল দেখে নিবেন।
🚗 ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরবাইকে
নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে গেলে নিচের যেকোনো রুট ব্যবহার করতে পারেন—
-
ঢাকা → টঙ্গী → ভুলতা → নরসিংদী → নাগরিয়াকান্দি
-
ঢাকা → গাজীপুর → ইটাখোলা (শিবপুর) → নরসিংদী জেলখানা মোড় → নরসিংদী পৌরসভা → নাগরিয়াকান্দি
খাবেন কোথায় ?
খাবারের জন্য পার্কের ভেতরে বেশ কয়েকটি ফুডকোর্ট ও স্টল পেয়ে যবেন। বিভিন্ন ধরনের খবার পাবেন স্টলগুলোতে।
ফাস্টফুড আইটেম – চিকেনফ্রাই, স্যান্ডউইচ, বার্গার, চিকেন শর্মা, পিৎজা, স্মোকি চিকেন বল ।
দেশি আইটেম – ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি, ডালপুরি, খিচুড়ি, ডিমভাজা।
পানীয় ও ডেজার্ট আইটেম – লাচ্চি, জুস, আইসক্রিম, কেক, কোক।
তবে পার্কের বাইরে হালকা নাস্তা থেকে ভাত, মাছ, মাংস সবই পাবেন। পার্কের ভিতরে খাবার মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে তাই বাহিরের স্টলগুলোতেও খেতে পারেন। পরিবার নিয়ে একটু নিরিবিলি খেতে চাইলে পার্কের বাহিরের স্টলগুলোই আরামদায়ক হবে- যেখানে সবুজ বিস্তীর্ণ খোলা মাঠের নির্মল বাতাস এক অন্যরকম অনুভূতি দিবে।
থাকবেন যেখানে?
আপনারা যারা দূর থেকে থাকার উদ্দেশ্য আসবেন তাদের আগেই বলা ভালো যে পার্ক এাড়িয়াতে থাকবার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে দূরের দর্শনার্থী হয়ে থাকলে আপনারা নরসিংদী শহরে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন –
১। হোটেল আজিজ: এটির অবস্থান নরসিংদী মূল শহরের প্রধান সড়ক সংলগ্ন।
মোবাইল নং : ০১৭১২-০৭০২৩১
২।হোটেল মমতাজ : নরসিংদী বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রধান বাজার এলাকায়।
মোবাইল নং : ০১৭১১-৯৫২১২০
৩। হোটেল নিরালা : নরসিংদী রেলস্টেশনের কাছে, স্টেশন রোড এলাকায়।
মোবাইল নং : ০১৭১১-১৯৬৬৯৯
বি. দ্র.- স্পেশাল দিনগুলো বা ভ্রমণ মৌসুমে হোটেলগুলোতে চাপ থাকে বেশি তাই আগেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো।
ভ্রমণ পরামর্শ
-
- ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।
- গ্রীষ্মে ভ্রমণ করলে সঙ্গে নিতে পারেন হাত ছাতা ও কোমল পানি ও ফেস টিস্যু, ক্যাপ ও সানগ্লাস।
- বর্ষায় রেইনকোর্ট বা হাত ছাতা।
- শুকনো খাবার যেমন – কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, চকোলেট, চিপস এর পাশাপাশি জুস বা বিভিন্ন ফ্রুটস সঙ্গে নেওয়া।
- আলোকচিত্রী হলে নিতে পারেন ক্যামেরা, সেলফি স্টিক।
- প্রফেশনাল ইউটিউবার হলে স্ট্যান্ড, মাইক্রোফোন, মিনি ড্রোন ক্যামেরা নিতে পারেন।
- নিজেদের জিনিসপত্র ও বাচ্চাদের দেখে রাখুন ও কোনো সমস্যা পার্ক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
- ঢিলেঢালা বা আরামদায়ক পোশাক পরিধান করুন।
- পার্কের ভিতরে ফুল, গাছ, পোষা প্রাণীকে হাত না দেওয়া।
সারকথা
উপরের দিকনির্দেশনাগুলো অনুযায়ী নগরিয়াকান্দি গোল্ডেন স্টার পার্ক ও সানফ্লাওয়ার গার্ডেনে সৌন্দর্যের স্বাদ উপভোগ করতে পারেন আপনিও! তবে একজন সচেতন ভ্রমণ পিপাসু হিসেবে পার্কটির সৌন্দর্য বজায় রাখতে যত্র-তত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যকেউ উৎসাহিত করুন। ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবে পরিবার বা কাছের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণকে উপভোগ্য করে তুলুন। আপনার ভ্রমণ যাত্রা শুভ ও নির্বিঘ্ন হোক। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ।

