বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এমন একটি জায়গা আছে, যাকে প্রথম দেখায় বিদেশের কোনো ল্যান্ডস্কেপ মনে হতে পারে। সবুজ সমতল ভূমি, পাহাড়ের সারি, ধানক্ষেত আর ছোট ছোট ঘরবাড়ির দৃশ্য অনেকের কাছেই ওশেনিয়ার নিউজিল্যান্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই কারণেই জায়গাটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত নিউজিল্যান্ড পাড়া নামে। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি বর্তমানে খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্পট।
নিউজিল্যান্ড পাড়া কী কিংবা কোথায় এর অবস্থান ?
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বর হতে মাত্র দেড় (১.৫) কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ দিকে এই জায়গাটি অবস্থিত। যাওয়া যাবে অটোতে বা সিএনজি যোগে। মারমা পানখাইয়া পাড়া এবং আপার পেরাছড়ার কিছু জায়গা দেখতে নিউজিল্যান্ডের মত হওয়ায় জায়গাটি স্থানীয়দের কাছে নিউজিল্যান্ড পাড়া বলে পরিচিতি লাভ করে। এবং মারমা পানখাইয়া পাড়া হতে আপার পেরাছড়ার দিকে যাওয়ার সড়কটিকে নিউজিল্যান্ড সড়ক বলে ডাকা হয়।
কি কি দেখার আছে এখানে ?
কি নেই এখানে? খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ডের যোগানও কম নয়। প্রতি বছর অতিথি পাখির মতন অসংখ্য মানুষের সমাগম হয় এই নিউজিল্যান্ডে।সমতল ভুমি। পাশে ধান আর সবুজের শস্যক্ষেত। তাবুর মতন ছোটখাটো বিল্ডিং। সামনের দিকে রয়েছে খাগড়াছড়ির অরণ্য পাহাড়। যার বুক থেকে প্রতিনিয়ত ভেসে আসে ঝর্ণার সৌন্দর্য্যের গন্ধ। গড়ে উঠছে নিত্যনতুন বসতি। পাহাড়ের কোল ঘেষে ঘুমিয়ে থাকা এই নিউজিল্যান্ড জায়গাটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। যেন কোনো রূপসীর হাতে আঁকা ওশেনিয়ার নিউজিল্যান্ড।
বছরের কোন সময়টায় যাবেন ?
কিভাবে যাবেন?
🚌 বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি
- শান্তি পরিবহন
- সৌদিয়া পরিবহন
- এস আলম পরিবহন (রুটভেদে)
চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি
- শান্তি পরিবহন
- সৌদিয়া পরিবহন
- এস আলম (রুটভেদে)
🚙 জিপ / চান্দের গাড়িতে যাতায়াত
দলগতভাবে বা অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের জন্য চান্দের গাড়ি (লোকাল জিপ) নিতে পারেন।
⏱️ সময়: ৩.৫–৪ ঘণ্টা
💰 ভাড়া: গাড়িভেদে ৩৫০০–৫০০০ টাকা (পুরো গাড়ি)
👉 দল নিয়ে গেলে এটি সুবিধাজনক ও সময় সাশ্রয়ী।
📍 খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর পর নিউজিল্যান্ড পাড়ায় যাবেন যেভাবে
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে নিউজিল্যান্ড পাড়া মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে।
-
অটো/সিএনজি ভাড়া: ২০–৪০ টাকা
-
সময় লাগে: ৫–১০ মিনিট
লোকাল ড্রাইভারদের বললেই হবে “নিউজিল্যান্ড পাড়া” অথবা “পানখাইয়া পাড়া–আপার পেরাছড়া রোড”
খাগড়াছড়ি শহর থেকে
কুমিল্লা থেকে খাগড়াছড়ি
কুমিল্লা থেকে খাগড়াছড়িতে আসার জন্য নন এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এর মধ্যে থাকে।আর এসিতে হলে ৪৫০ থেকে ৬০০+ টাকা লাগতে পারে যেটি উন্নত সেবার উপর নির্ভরশীল।এবং এই বাসগুলো প্রধানত শান্তি পরিবহন-এর মতো বাস কোম্পানিগুলো পরিচালনা করে থাকে।কুমিল্লা থেকে খাগড়াছড়িতে যাওয়ার স্থান হলো কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বা পদুয়ার বাজার যেটি শান্তি পরিবহনের কাউন্টার। আর আপনারা আসার সময় আরেকবার ভালোভাবে চেক করে আসবেন।
থাকবেন কোথায় ?
এখানে রয়েছে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল। দরদামের উপর ভিত্তি করে আপনারা বেছে নিতে পারেন আপনাদের উপভোগ্য হোটেল / বোর্ডিং। যেখানে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকার হোটেলে পর্যন্ত আরামসে থাকতে পারবেন।খাগড়াছড়ি শহরের মধ্যে ভালো মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে :
পর্যটন মোটেল: খাগড়াছড়ির পর্যটন মোটেল চেঙ্গী নদীর পাশেই অবস্থিত। যেটি একটি সরকারি আবাসন। এই মোটেল মনোরম পরিবেশে আরামদায়ক থাকার সুবিধা দেয়। এখানে বিভিন্ন মানের এসি \নন এসি রুম সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। এবং এটি ঝুলন্ত সেতু ও জেলা পরিষদ পার্কের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক। আর হোটেল বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন: (বাংলাদেশ পর্যটন): ০১৭৩৭-৪৪৪৯৬১, ০২৩৩৩৩-৪৩০৮৪, ০২৩৩৩৩-৪৩০৮৫ এই নাম্বারে (পরিবর্তিত হতে পারে)।
হোটেল ইকো ছড়ি ইন: হোটেল ইকো ছড়ি ইন হোটেলটি খাগড়াপুর ক্যান্টনমেন্টের পাশে-মনোরম পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত। এটি একটি রিসোর্ট-টাইপের হোটেল, যা আপনাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকার সুবিধা দিবে।এখানে এসি ও নন-এসি কক্ষ রয়েছে। যেখানে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ নিতে পারে। (চার্জ পরিবর্তিত হতে পারে)।যেখানে যোগাযোগ করবেন : ০৩৭১-৬২৬২৫ , ৩৭৪৩২২৫ (পরিবর্তিত হতে পারে)।
এছাড়াও আপনারা হোটেল গাইরিং, হোটেল হিল প্যারাডাইস-সহ এই সব হোটেলে এসি\নন এসি রুম ভেদে প্রয়োজনীয় চার্জ অনুযায়ী রাতটা সুন্দরভাবে কাটাতে পারবেন। আর যদি মনে করেন,আপনাদের বাজেট স্বল্প। তাহলেও কোনো সমস্যা নাই। স্বল্প বাজেটের মধ্যেও আপনারা পেয়ে যাবেন কমফরটেবল বোর্ডিং।যেটা ভালো আর উন্নতমানের। স্বল্প খরচে থাককর জন্য আপনাকে শাপলা চত্বরের আশেপাশে কিছু বোর্ডিং ধরণের হোটেল আছে সে গুলোতে ৩০০-৪০০ টাকায় আরামসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
খাবেন কোথায় ?
এখানে থাকার জায়গাটা ত বন্দোবস্ত হল। তাহলে খাবেন কোথায়? না,চিন্তার কোনো কারণ নেই। খাবারেরও ব্যবস্থা রয়েছে খাগড়াছড়িতে। আপনারা চাইলে ভালো উন্নতমানের রেস্তোরায়ও খেতে পারবেন। আবার শহরের কিছু ভালো খাবারের দোকান রয়েছে। সেখানেও খেতে পারেন যদি বাজেট কম থাকে। খাগড়াছড়ি শহরের বাসস্ট্যান্ড এবং শাপলা চত্বর এলাকায় অনেক গুলো ভালো খাবার হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট আছে। এগুলোতে ভাত, মাছ, মাংস সহ পরিচিত নানা ধরণের খাবার পাওয়া যায়। এবং পানখাইয়া পাড়ায় অবস্থিত ‘সিস্টেম রেস্তোরা’-তে কফি, হাসের কালাভূনা, বাশকুড়ুল এবং ঐতিহ্যবাহী হরেক রকম পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন চাইলে।
প্রবেশ ফি ও ভ্রমণ টিপস
- নিউজিল্যান্ড পাড়ায় প্রবেশের জন্য আলাদা কোনো ফি নেই।
- সকাল ও বিকাল সময় ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো।
- স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান রাখুন।
- পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।
- পর্যাপ্ত নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন।
নিউজিল্যান্ড পাড়া সম্পর্কিত নানাবিহপ্রশ্ন এবং তার উত্তর
কেন একে নিউজিল্যান্ড পাড়া বলা হয়?
- বিস্তীর্ণ সমতল জমি
- সবুজ ধানক্ষেত ও শস্যক্ষেত
- পাহাড়ের পাদদেশে ছোট ছোট ঘরবাড়ি
- সামনে পাহাড়ি বন ও দূরে ঝর্ণার উপস্থিতি
পরিবার নিয়ে যাওয়া নিরাপদ?
- জায়গাটি খাগড়াছড়ি শহরের খুব কাছাকাছি, তাই সম্পূর্ণ দুর্গম নয়
- দিনে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের নিয়মিত যাতায়াত থাকে
- আশেপাশে বসতিপূর্ণ এলাকা ও দোকানপাট রয়েছে
- প্রবেশ ফ্রি এবং পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত ও পরিবার-বান্ধব

