তামান্না পার্ক

তামান্না পার্ক

রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি মিরপুর-১ -এ নয়নাভিরাম এক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বন্ধের দিন বা ফাঁকা সময়ে ভ্রমণের জন্য বর্তমানে তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্কটি বেশ জনপ্রিয়। আজ আপনাদের জানাব এটি কোথায় অবস্থিত, কীভাবে যাবেন, প্রবেশের সময়সূচী ও টিকিটের মূল্যসহ এখানকার যাবতীয় বিষয়ের খুটিনাটি। একজন ভ্রমণ পিপাসু হিসেবে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লেখাটি পড়তে থাকুন ।

তামান্না পার্ক কোথায় অবস্থিত ? 

বর্তমান সময়ে ঢাকার ভিতরে ভ্রমণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা এই পার্কটির অবস্থান মিরপুর এলাকায় । এই বিনোদনকেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে মিরপুর-১ এর আশুলিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন  গোড়ান চাটবাড়ি এলাকার তুরাগ নদীর কাছে। 

যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তথেকে প্রথমে রাজধানী ঢাকাতে এসে মতিঝিল/শাহবাগ/ ফর্মগেট এলাকা থেকে পাবেন আল মক্কা পরিবহণ, গাবতলি /শ্যামলী/ টেকনিক্যাল থেকে পাবেন ফার্স্টট্রেন পরিবহণ, আল মক্কা, আলিফ পরিবহণ, আগারগাঁও / পল্লবী থেকে পাবেন লামস পরিবহন ও আলিফ পরিবহণ, উত্তরা থেকে লামস ও আলিফ এবং বিজয় সরণী/ মহাখালী  থেকে পাবেন আলিফ পরিবহণ যেগুলো আপনাকে সরাসরি মিরপুর-১ নামিয়ে দিবে। সেক্ষেত্রে ভাড়া দূরত্ব ভেদে ৩০-৭০ টাকা পরবে। অথবা চাইলে মিরপুর-১০ পর্যন্ত মোট্রোরেলে যেতে পারেন এতে ভ্রমণে নতুন একটি মাত্রা যোগ হবে তবে সেখান থেকে রিক্সা বা যেকোনো মাধ্যমে আবার মিরপুর-১ এ আসতে হবে। মিরপুর-১ থেকে তামান্না পার্কের দূরত্ব ১.৫ থেক ২ কি. মি. তাই সবচেয়ে ভালো হয় রিক্সায় যাওয়া যেখানে আপনি বেড়িবাঁধ ধরে গোড়ান চাটবাড়ি তামান্না পার্কে পৌঁছাতে সময় লাগবে ৮-১০ মিনিট এবং ভাড়া পরবে ৫০-৮০ টাকার ভিতরে। তবে সকাল ৮-১০ ও বিকেল ৫-৭:৩০ টার সময়টা এড়িয়ে চলা ভালো কারণ এসময় রাস্তা সচরাচর জ্যাম থাকে।

পার্কে প্রবেশের সময়সূচী 

একসময় পার্কটিতে প্রবেশের সময়সূচী সকাল ৯:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০টা পর্যন্ত হলেও বর্তমান সংশোধিত সময় অনুযায়ী দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় সকাল ১০:০০ টা থেকে শুরু এবং যা রাত ৮:০০ টার আগ অবধি চলতে থাকে।

তামান্না পার্ক কবে বন্ধ থাকে ?

সাধারণত পার্কটি সপ্তাহের সাত দিন এবং বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকে। অর্থাৎ কোনো বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া পার্কটি সারবছরই ভ্রমণপ্রেমিদের জন্য উন্মুক্ত থাকে ফলে আত্মিক প্রশান্তি পেতে সপ্তাহের যেকোনো দিন নির্দিষ্ট সময়ে চলে আসতে পারবেন এই মোহময় ভ্রমণপ্লেসে।

তামান্না পার্কের টিকিট প্রাইস ও রাইড ভাড়া

২ বছরের বেশি বয়সী সকলের জন্য টিকিট বাধ্যতামূলক সেক্ষেত্রে টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৭০ টাকা। এখানে টিকিকের সঙ্গে কেনো রাইড ফ্রি না থাকায় রাইডগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন খরচ বহন করতে হয়। এখানে রাইডগুলোর মধ্যে রোলারকোস্টারে জনপ্রতি ১০০ টাকা, বাচ্চাদের জন্য কিডসজোনে মোট ১০টি রাইড পাবেন জনপ্রতি ১৫০ টাকায়, মনোরেল ৭০ টাকা, ফেরিস হুইল/ওন্ডার হুইল ৫০ টাকা, পান্ডা/সোয়ান এডভেঞ্চার ৫০ টাকা, মিনিট্রেন ৫০ টাকা, হানিসুইং ৫০ টাকা ও অন্যান্য রাইডগুলো ৫০-১০০ টাকার ভিতরেই পাবেন। তবে ওয়াটার পার্ক/পুল রাইডের জন্য গুনতে হবে ৫০০ টাকা যেখানে সময় পাবেন ২ ঘন্টা । প্রতিটি রাইডের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। আরও বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন – 01770624553, 01770624556, 01770624557 নাম্বারগুলোতে।

পার্কে দেখার কী কী আছে? 

চমৎকার এই বিনোদন স্পটটি তুরাগ নদীর তীরে অবস্থান করায় এর চারদিকের গাছপালা আর রঙবেরঙের বাহারি ফুলের সমারোহ দর্শনার্থীদের চোখে এনে দেয় এক অনাবিল প্রশান্তি। শহরের চারদেয়ালে আটকে থাকা যান্ত্রিক জীবনকে ক্ষণিকের জন্য বিদায় জানাতে নদী আর প্রকৃতির ছোঁয়া একসঙ্গে পাবেন এখানে। তাছাড়া প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই  ভ্রমণপ্লেসে দেখার জন্য রয়েছে সুউচ্চ ফেরিস হুইল, রোমাঞ্চিত রোলারকোস্টার,  ওয়েল ডেকোরেট কিডস জোন আর পুরো পার্কের প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিতে আছে মিনি ট্রেন। এরপর সারাদিনর ভ্রমণ ক্লান্তি থেকে একটু প্রশান্তি পেতে রয়েছে চোখধাঁধানো  ওয়াটার প্লেগ্রাউন্ড যেখানে পরিবারসহ উপভোগ করতে পারেন পুলের নীল পানিতে ভেসে থাকার এক মোহনীয় মুহূর্ত। তাছাড়াও ছোট পরিসরে পিকনিক বা জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠানগুোলো করবার জন্য একটা সুবিশাল হল রুমও রয়েছে। আবার ছোটো সেমিনার বা ক্যাম্পেইনের জন্য আছে একটি মুক্তোমঞ্চ। ভ্রমণের স্থানটি খুব বড় না হলেও এর প্রতিটা অংশই বেশ পরিপাটি আর আর নজরকাড়া। 

কোথায় খাবেন 

খাবারের জন্য পার্কের ভিতরেই রয়েছে তাদের নিজস্ব তামান্না রেস্টুরেন্ট যেখানে পিকনিক স্টাইলে অর্ডার করেও খেতে পারবেন অথবা সচারাচর চটপটি, নুডলস, কাবাব, নান ও চিকেন ফ্রাইয়ের মতো খাবারগুলো খেতে পারেন। তবে যদি আরও অন্যরকম খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে বিনোদনকেন্দ্রের কাছাকাছি  মিরপুর এলাকায় অনেক রেস্টুরেন্ট পাবেন যেগুলোতে নতুন খাবার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। তাদের মধ্যে – ক্যাফে ফোর স্টার রেস্টুরেন্ট, পূর্ণিমা রেস্টুরেন্ট, হ্যালো ডাইন, বোগিম্যান মিরপুর, কাবাব এক্সপ্রেস মিরপুর, জিনজিয়ান রেস্টুরেন্টগুলো হতে পারে পছন্দের তালিকায় সেরা।

ভ্রমণ সতর্কতা

  • প্রবেশের টিকিট ও রাইডের টিকিট ভালোভাবে সংরক্ষণ করুন।
  • বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দুর্বল হার্টের রোগীদের জন্য রোলারকোস্টার বা ফেরিসহুইলের মতো রাইডগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • সাঁতার না জানেলে ওয়াটার পার্কে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন। 
  • ভ্রমণের পূর্বে রাস্তার যানজটের আপডেট রাখুন ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিন।
  • পরিবারসহ ঘুরতে ফাঁকাসময় বাছাই করুন। সরকারি ছুটির দিনগুলো ব্যাতিত অন্য কোন দিন যাওয়ার চেষ্টা করুন। 
  • কিডসজোনে বাচ্চাকে চোখে চোখে রাখুন ও প্রয়োজনে তাদের পকেটে বা হাতে নাম ঠিকানাসহ কার্ড রেখে দিন
  • যারা বাইরের অস্বাস্থকর খবার থেকে দূরে থাকতে চান তারা হালকা হোমমেড খাবার ও পানি সঙ্গে আনতে পারেন।
  • ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন, গাছপালা বা ফুলে হাত দিবেন না ও পার্কের নিয়মকে মেনে চলুন।
  • যেকোনো সমস্যায় সরাসরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!