মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামে গড়ে উঠেছে নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট। ঢাকা থেকে কাছেই হওয়ায় পরিবার, বন্ধু কিংবা দলীয় পিকনিকের জন্য জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। সবুজ গাছপালা, খোলা জায়গা, পুকুর, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির উপস্থিতি এখানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
এই আর্টিকেলে আজ আমরা জানবো নাহার গার্ডেনের অবস্থান, এখানে কী কী দেখার আছে, পিকনিক স্পটের ভাড়া, প্রবেশ মূল্য, কীভাবে যাবেন এবং ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য।
নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট কোথায় অবস্থিত?
নাহার গার্ডেন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কামতা গ্রামে অবস্থিত। এটি ঢাকা-মানিকগঞ্জ মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছেই। গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সাটুরিয়ার দিকে প্রায় ২ কিলোমিটার গেলেই নাহার গার্ডেনে পৌঁছানো যায়।
জায়গাটি গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে। চারপাশে গাছপালা রয়েছে। কাছাকাছি ধলেশ্বরী নদীর পরিবেশও পাওয়া যায়। তাই শহরের ব্যস্ততা থেকে একদিনের জন্য দূরে থাকতে চাইলে জায়গাটি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।
নাহার গার্ডেনে কী কী দেখবেন?
নাহার গার্ডেনে ঘোরার সময় বেশ কিছু আকর্ষণ দেখতে পাবেন।
- মিনি চিড়িয়াখানা: বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও কয়েকটি প্রাণী দেখার সুযোগ রয়েছে। পাখির মধ্যে টিয়া, ঘুঘু, লাভবার্ড, ককাটেল ও মেকাওয়ের মতো প্রজাতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
- শিশু পার্ক: শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে।
- পুকুর ও নৌকা ভ্রমণ: নাহার গার্ডেনের পুকুরগুলো জায়গাটির পরিবেশকে আরও সুন্দর করেছে। নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থার কথাও বিভিন্ন ভ্রমণসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
- টাইটানিকের আদলে তৈরি স্থাপনা: নাহার গার্ডেনের অন্যতম পরিচিত আকর্ষণ এটি। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।
- সবুজ পরিবেশ: গাছপালা ও খোলা জায়গার কারণে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য পরিবেশটি বেশ আরামদায়ক।
নাহার গার্ডেনের পিকনিক স্পট ও ভাড়া
নাহার গার্ডেনে পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আলাদা স্পট রয়েছে। প্রচলিত স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে বোকেন ভিলা, টাইটানিক ভ্যালি, ভিআইপি বাংলা, পালকি কটেজ, ফোয়ারা কটেজ, পার্ক কটেজ ও গার্ডেন কটেজ।
সাম্প্রতিক অনলাইন তথ্য অনুযায়ী, স্পট ভাড়া সাধারণত ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া স্পটের আকার, লোকসংখ্যা ও দিনের ওপর নির্ভর করে। ছুটির দিনে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তবে নাহার গার্ডেনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পুরোনো ভাড়ার তালিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। তাই পিকনিকের তারিখ ঠিক করার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান ভাড়া জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
নাহার গার্ডেনে প্রবেশ মূল্য কত?
সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নাহার গার্ডেনে সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। তবে পিকনিক স্পট বুকিংয়ের খরচ এর বাইরে।
প্রবেশ মূল্য ও পিকনিক স্পটের ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ মূল্য জেনে নেওয়া ভালো।
নাহার গার্ডেনে কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে নাহার গার্ডেনে যেতে চাইলে প্রথমে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে উঠতে পারেন। বাসে কামতা-গোলড়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।
কামতা-গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে নাহার গার্ডেন প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা স্থানীয় অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি নাহার গার্ডেনে যেতে পারবেন।
নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে ঢাকা-মানিকগঞ্জ মহাসড়ক ধরে গোলড়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে হবে। গোলড়া থেকে সাটুরিয়ার দিকে এগিয়ে কামতা এলাকায় পৌঁছালেই নাহার গার্ডেনের পথ পাওয়া যাবে। জায়গাটি কামতা ব্রিজের কাছাকাছি।
সহজ রুট: ঢাকা → গাবতলী → মানিকগঞ্জ রোড → কামতা-গোলড়া বাসস্ট্যান্ড → সিএনজি → নাহার গার্ডেন।
নাহার গার্ডেন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
নাহার গার্ডেন ভ্রমণের জন্য শীতকাল সবচেয়ে জনপ্রিয় সময়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে। পরিবার, বন্ধু বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পিকনিকের আয়োজনও এই সময়ে বেশি দেখা যায়।
বর্ষাকালেও জায়গাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে বৃষ্টির দিনে খোলা জায়গায় ঘোরাঘুরি কিছুটা অসুবিধার হতে পারে। তাই পিকনিকের দিন ঠিক করার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া ভালো।
দর্শনার্থীদের জন্য পরামর্শ
নাহার গার্ডেনে যাওয়ার আগে পিকনিক স্পট বুকিং থাকলে সেটি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। পিকনিকের সময় অনুযায়ী ভাড়া ও বুকিংয়ের নিয়ম বদলাতে পারে।
বুকিং, প্রবেশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নাহার গার্ডেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৫০-১৯৫১০০, ০১৭৫০-১৯৫১০৫ ও ০১৭৩৯৬৩৩২৯৮।
নাহার গার্ডেনে দর্শনার্থীদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। পাইভেট কারের জন্য ৫০ টাকা এবং বাসের জন্য ৯০ টাকা পার্কিং ফি তবে পার্কিং ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান পার্কিং চার্জ জেনে নেওয়া ভালো।


