তেওতা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের তেওতা গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার সঙ্গে জমিদারি আমলের ইতিহাসের পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু নবরত্ন মঠ এবং কাছেই রয়েছে যমুনা নদী।
পুরোনো জমিদার বাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে চাইলে তেওতা জমিদার বাড়ি হতে পারে আপনার ভ্রমণ তালিকার একটি জায়গা। বাড়িটির বেশিরভাগ অংশ এখন জরাজীর্ণ। তবে পুরোনো স্থাপনা, নবরত্ন মঠ ও আশপাশের ঐতিহাসিক পরিবেশ এখনো দেখার মতো। আজ আমরা জানবো তেওতা জমিদার বাড়ি কোথায়, এর ইতিহাস, কী কী দেখবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন এবং কোথায় থাকবেন।
তেওতা জমিদার বাড়ি: এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | তেওতা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ |
| বয়স | প্রায় ৩০০ বছর |
| আয়তন | প্রায় ৭.৩৮ একর |
| উল্লেখযোগ্য স্থাপনা | জমিদার বাড়ি, নবরত্ন মঠ, লালদিঘী, নাটমন্দির |
| নবরত্ন মঠ | প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু |
| কক্ষ | প্রায় ৫৫টি |
| কাছের নদী | যমুনা |
| ঐতিহাসিক সংযোগ | কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবী |
তেওতা জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত ?
তেওতা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের তেওতা গ্রামে অবস্থিত। এটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
তেওতা জমিদার বাড়ির ইতিহাস
তেওতা জমিদার বাড়ির ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো বলে বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। তেওতা ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চানন সেন আনুমানিক ১৭০০ শতকে প্রায় ৭.৩৮ একর জায়গার ওপর প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরে হেমশংকর ও জয়শংকর এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
তেওতা জমিদার বাড়ির সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। প্রমীলার পৈতৃক বাড়ি ছিল এই জমিদার বাড়ির কাছেই। নজরুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের সূত্রও তৈরি হয় এই এলাকায়।
তেওতা জমিদার বাড়িতে কী দেখবেন?
তেওতা জমিদার বাড়িতে পুরোনো স্থাপনার বেশ কিছু নিদর্শন এখনো দেখা যায়।
- জমিদার বাড়ির মূল ভবন: জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন ও পুরোনো স্থাপত্যের অংশ এখনো টিকে আছে। ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ হেমশংকর ও জয়শংকর এস্টেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে স্থানীয় সরকারি তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
- লালদিঘী: জমিদার বাড়ির পূর্ব দিকে থাকা লালদিঘী এলাকার অন্দরমহলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দিঘির পাশে শান বাঁধানো ঘাটও রয়েছে।
- নাটমন্দির: জমিদারদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত নাটমন্দিরও তেওতা জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ।
- নাটমন্দির: জমিদার বাড়ির দুই এস্টেটের সামনে দুটি নাটমন্দির ছিল। পুরোনো স্থাপত্যের অংশ হিসেবে এগুলোও দেখতে পারবেন।
- যমুনা নদী: জমিদার বাড়ির কাছেই যমুনা নদী। বাড়ি ঘোরার পর নদীর পাড়েও কিছুটা সময় কাটাতে পারেন।
- নজরুল-প্রমীলার স্মৃতি: কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর সম্পর্কের সঙ্গে তেওতা এলাকার ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এই বিষয়টিও জায়গাটির অন্যতম আকর্ষণ।
তেওতা জমিদার বাড়ির বর্তমান অবস্থা
তেওতা জমিদার বাড়ির বেশ কিছু স্থাপনা বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেয়াল, ভবন ও স্থাপত্যের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় ও অযত্নের চিহ্ন দেখা যায়। তবে নবরত্ন মঠসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর কারণে জায়গাটি এখনো ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়।
যাবেন কিভাবে?
ঢাকা থেকে বাসে
ঢাকা থেকে তেওতা জমিদার বাড়ি যেতে প্রথমে আরিচা ঘাট যেতে হবে। ঢাকার গাবতলী বা গুলিস্তান থেকে মানিকগঞ্জ ও আরিচাগামী বাস পাওয়া যায়। বিআরটিসি, শুভযাত্রা ও পদ্মা লাইনের বাস এই পথে চলাচল করে। আরিচা ঘাটে নেমে সিএনজি, অটোরিকশা বা রিকশা নিতে পারেন। সেখান থেকে সরাসরি তেওতা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যায়। সরকারি পর্যটন তথ্যেও আরিচা ঘাট থেকে সিএনজি বা রিকশায় তেওতা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রুটঃ ঢাকা → আরিচা ঘাট → তেওতা
মানিকগঞ্জ থেকে
মানিকগঞ্জ শহর থেকে সড়কপথে তেওতা যাওয়া যায়। স্থানীয় বাস, সিএনজি বা অটোরিকশার মাধ্যমে তেওতা এলাকার দিকে যেতে পারেন। নির্দিষ্ট যানবাহন ও ভাড়া যাত্রার সময় স্থানীয়ভাবে জেনে নেওয়া ভালো।
দেশের অন্যান্য স্থান থেকে
ঢাকার বাইরে থেকে এলে প্রথমে মানিকগঞ্জ বা আরিচা ঘাট আসা সুবিধাজনক। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় তেওতা জমিদার বাড়িতে যেতে পারবেন। কাছাকাছি জেলা থেকে সড়কপথে সরাসরি মানিকগঞ্জ বা আরিচাগামী বাসেও আসতে পারেন।
কোথায় খাবেন?
তেওতা জমিদার বাড়ির আশপাশে বড় রেস্টুরেন্টের সংখ্যা সীমিত। স্থানীয় খাবারের জন্য তেওতা বাজার বা আরিচা ঘাটের দিকে যেতে পারেন। দিনের খাবারের পরিকল্পনা করলে আরিচা ঘাট বা মানিকগঞ্জ শহরে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা সুবিধাজনক।
কোথায় থাকবেন?
তেওতা জমিদার বাড়ি ঘুরে একই দিনে ঢাকায় ফিরে আসার পরিকল্পনা করা যায়। তবে আশপাশের এলাকা ও যমুনার পাড় সময় নিয়ে দেখতে চাইলে মানিকগঞ্জ শহরে রাতযাপন করতে পারেন।
তেওতা জমিদার বাড়ি সম্পর্কে আরও কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- তেওতা জমিদার বাড়ি কোথায়?
মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের তেওতা গ্রামে।
- তেওতা জমিদার বাড়ি কত বছরের পুরোনো?
বিভিন্ন সূত্রে বাড়িটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর বলে উল্লেখ করা হয়।
- তেওতা জমিদার বাড়ি কে নির্মাণ করেন?
তেওতা ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চানন সেন আনুমানিক ১৭০০ শতকে প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরে হেমশংকর ও জয়শংকর এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তেওতা জমিদার বাড়িতে কী কী দেখা যায়?
জমিদার বাড়ির পুরোনো ভবন, লালদিঘী, নাটমন্দির, নবরত্ন মঠ, শান বাঁধানো ঘাট এবং আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখা যায়।
- তেওতা জমিদার বাড়ির সঙ্গে নজরুল ও প্রমীলার সম্পর্ক কী?
প্রমীলা দেবীর পিতার বাড়ি জমিদার বাড়ির পাশে ছিল এবং নজরুলের সঙ্গে সেই পরিবারের যোগাযোগের সূত্রে তেওতা এলাকায় তাঁর যাতায়াত ছিল।
- ঢাকা থেকে তেওতা জমিদার বাড়ি কীভাবে যাব?
ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাট গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি বা রিকশায় তেওতা জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পর্যটন তথ্যেও এই route উল্লেখ আছে।




