বিছনাকান্দি ভ্রমণ গাইড ২০২৬ | যাওয়ার উপায়, খরচ, দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ টিপস

Bisnakandi Sylhet

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান ও পাথর কোয়ারি। সুউচ্চ পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ শীতল জলধারা, পাথরের বিছানা এবং দূরের আকাশচুম্বী পাহাড়ের সৌন্দর্য বিছানাকান্দির মূল আকর্ষণ। নদীর তলদেশের নুড়ি পাথরগুলো স্বচ্ছ পানির নিচে স্পষ্ট দেখা যায়।

প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে ও পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে বিছানাকান্দি হতে পারে চমৎকার একটি ভ্রমণস্থান। এখানে পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা ঝর্ণা ও পিয়াইন নদীর শাখার মিলন হয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় ও আঁকাবাঁকা ঝর্ণার সারি বিছানাকান্দিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

আপনি কি প্রকৃতিপ্রেমী? প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিছানাকান্দি হতে পারে দারুণ একটি ভ্রমণস্থান। আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনার ভ্রমণকে সহজ করতে সাহায্য করবে। আমরা এই আর্টিকেল থেকে জানবো বিছানাকান্দি কোথায় অবস্থিত এবং এর বর্তমান অবস্থা কী। এছাড়া জানবো বিছানাকান্দি কিভাবে যাবো এবং এখানে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

বিছানাকান্দি কোথায় অবস্থিত?

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এই পাথর কোয়ারির অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে খাসিয়া ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার উত্তরে বিছানাকান্দির অবস্থান। ঢাকা থেকে বিছানাকান্দির দূরত্ব প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার।

বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে সিলেট

আপনি যদি ঢাকা থেকে বিছানাকান্দি যেতে চান, তবে আপনাকে প্রথমে সিলেটে যেতে হবে। ঢাকা থেকে আপনি বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে করে সিলেট পৌঁছাতে পারবেন।

বাসে

ঢাকা থেকে এসি ও নন-এসি বাসে করে সিলেট যাওয়া যায়। ঢাকা সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও মহাখালীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, হানিফ পরিবহন, এনা পরিবহন ইত্যাদি বাস সিলেটের উদ্দেশ্যে যায়। এক্ষেত্রে আনুমানিক ভাড়া পড়বে:

  • এসি বাস (১২০০-১৫০০) টাকা জনপ্রতি
  • নন-এসি বাস (৭০০-৭৫০) টাকা জনপ্রতি

বাস ও সময়ভেদে ভাড়া কম-বেশি হতে পারে।

ট্রেনে

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জয়ন্তিকা, পারাবত, কালনী, উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন সিলেটে যায়। আপনি রেলওয়ের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে সাধারণত ভাড়া পড়বে:

  • শোভনঃ ২৬৫ – ৩২০ টাকা
  • শোভন চেয়ারঃ ৪১০ টাকা
  • স্নিগ্ধা(এসি চেয়ার)ঃ ৭৮৮ টাকা
  • এসি কেবিন ১২৮৮-১৩০০ টাকা

ট্রেনের আসন ও ভাড়ার তথ্য পরিবর্তন হতে পারে। এজন্য ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি ও ভাড়া যাচাই করে নিন।

বিমানে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ইত্যাদি বিমানে করে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন। বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়ান-ওয়ে টিকিট ভাড়া ৪৫০০ থেকে ৮০০০ টাকা হতে পারে (এয়ারলাইন্স ও সময় ভেদে)।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট

চট্টগ্রাম থেকে বাসে বা ট্রেনে করে সহজেই সিলেট যাওয়া যায়।

বাসে

চট্টগ্রামের দামপাড়া, অলংকার মোড় থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। যেমন: সৌদিয়া পরিবহন, লন্ডন এক্সপ্রেস, ইকোনো সার্ভিস, গ্রীন লাইন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে সাধারণত ভাড়া পড়বে নন-এসি বাস ৮৫০-১০০০ টাকা এবং এসি বাস ১৪০০-১৮০০ টাকা।

ট্রেনে

চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সিলেটে যাওয়া যায়। ট্রেনের ভাড়া ও সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। এজন্য ভ্রমণের আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি যেতে হলে প্রথমে সিলেটের মূল কেন্দ্র আম্বরখানা থেকে হাদারপাড় বাজার যেতে হবে। লোকাল বা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে হাদারপাড়ে পৌঁছাতে পারবেন। এক্ষেত্রে আনুমানিক ভাড়া হবে ১৪০-১৬০ টাকা (জনপ্রতি) এবং ১২০০-১৫০০ টাকা (রিজার্ভ সিএনজি)। আম্বরখানা থেকে হাদারপাড়ের দূরত্ব প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার।

হাদারপাড় বাজারে পৌঁছে বিছানাকান্দিতে লোকাল অথবা রিজার্ভ নৌকায় চড়ে যেতে হবে। হাদারপাড় থেকে পিয়াইন নদী হয়ে নৌকায় চড়ে বিছানাকান্দির মূল পাথুরে এলাকা ও পাহাড়ি স্পটে যাওয়া যায়। নৌকা ভাড়া যাত্রীর সংখ্যা ও নৌকার ধরনের ওপর নির্ভর করে। তাই যাওয়ার আগে মাঝির সঙ্গে ভাড়া জেনে নিন। রিজার্ভ নৌকার ক্ষেত্রে আনুমানিক ১০০০-১৫০০ টাকা ভাড়া লাগতে পারে। বিছানাকান্দি যেতে প্রায় ২০-৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

বিছনাকান্দি বর্তমান অবস্থা

বিছানাকান্দি ভ্রমণের জন্য বর্তমান সময় বেশ ভালো। সেপ্টেম্বর মাস বর্ষাকালের শেষভাগ। এই সময় পাহাড়ি ঝর্ণা ও পিয়াইন নদীর স্রোত আকর্ষণীয় দেখায়। চারপাশে সবুজ পাহাড়, পাথরের স্তর এবং স্বচ্ছ পানির স্রোত মিলে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য।

বর্তমানে বিছানাকান্দি ভ্রমণ করা গেলেও সড়কপথে যাত্রায় বেশি সময় লাগতে পারে। বিছানাকান্দিতে পানির স্রোত বেশি থাকলে পাথরের ওপর হাঁটা ও গভীর পানিতে নামার সময় অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।

বিছানাকান্দি ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কখন?

বিছানাকান্দি ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর। বর্ষার সময় চারিদিকে প্রচণ্ড পানি প্রবাহ থাকার কারণে বিছানাকান্দির প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এই সময় মনে হয় পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

এছাড়া বছরের অন্যান্য সময় পাথর উত্তোলনের কারণে ভ্রমণের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। বর্ষায় চারিদিক পানিতে ডুবে থাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে, এতে পরিবেশকে শান্ত ও স্বচ্ছ রূপে দেখা যায়। এই সময় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা আর মনোরম হয়, যা ভ্রমণকে সহজ করে। প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্য, পাহাড়ি পরিবেশ এবং পানির প্রবাহ উপভোগ করতে বর্ষাকাল বিছানাকান্দি ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

বিছানাকান্দি নিয়ে কিছু সাধারন প্রশ্ন ও উত্তর

  • জাফলং থেকে বিছানাকান্দি কত কিলোমিটার?

          ভোলাগঞ্জ থেকে বিছানাকান্দির দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ২১.২ কিলোমিটার।

  • সিলেট থেকে বিছানাকান্দি কত কিলোমিটার?

          সিলেট শহর থেকে বিছানাকান্দির দূরত্ব প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার।

  • ভোলাগঞ্জ থেকে বিছানাকান্দি কত কিলোমিটার?
  • রাতারগুল থেকে বিছানাকান্দি কত কিলোমিটার?

এই পোস্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে নিচের স্টারগুলোতে ক্লিক করুন।

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

এখনও কোনো রেটিং পড়েনি। আপনিই প্রথম রেটিং দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!