বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণ গাইড

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এর স্মৃতি সংরক্ষণে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর গড়ে তোলা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের নিচতলায় আছে ছোট একটা গ্যালারি। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে বিশাল গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরিতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতি, ছবি এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টি বইয়ের সংগ্রহ আছে। 

আমরা এই আর্টিকেল থেকে জানবো বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর কোথায় ও এর ইতিহাস কী। পাশাপাশি জানবো এখানে কিভাবে যাবো এবং খোলা ও বন্ধের সময়। এছাড়া কোথায় থাকবো, কোথায় খাবো ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করব। আপনি কি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তবে এই আর্টিকেলটি আপনার যাত্রাকে আরও সহজ করতে সহযোগিতা করবে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর কোথায় ?

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর এর অবস্থান নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর (মতিউর নগর) গ্রামে। নরসিংদী জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ভৈরব বাজার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরত্বে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। এই জাদুঘরের ঠিক পাশেই আছে বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের বাড়ি, রামনগর হাইস্কুল এবং রামনগর উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাস কী ?

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফাইটার প্লেন টি-৩৩ নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিমান অবতরণের সময় সহ-পাইলট রশিদ মিনহাজের সাথে ধস্তাধস্তিতে বিমান বিধ্বস্ত হয়। ফলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন।

২০০৬ সালের ২৪ জুন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এর মরদেহ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ এনে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের উদ্দেশ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়।

কিভাবে যাবেন ?

ঢাকা থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর বাস অথবা ট্রেনে সহজেই যাতায়াত করা যায়। ঢাকা সায়দাবাদ, গুলিস্তান বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নরসিংদীর উদ্দেশ্য বাস ছাড়ে। যেমন: মেঘালয় পরিবহন, অনন্য পরিবহন, বিআরটিসি, ভৈরব এক্সপ্রেস ইত্যাদি বাসে উঠে নরসিংদীর রায়পুরা মোড় বা মরজাল বাসস্ট্যান্ড নামুন। এক্ষেত্রে সাধারনত জনপ্রতি ভাড়া লাগবে:

  • নন-এসি (১৫০-২৫০) টাকা
  • এসি বাস (৩০০-৪০০) টাকা

এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিতাস, চট্টলা এক্সপ্রেস, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ইত্যাদি ট্রেনে চড়ে রায়পুরার নিকটবর্তী মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যান। এক্ষেত্রে আসনভেদে সম্ভবত জনপ্রতি ৬০-১২০ টাকা ভাড়া লাগবে।

রায়পুরা সদর থেকে লোকাল সিএনজি বা অটোরিকশা করে সম্ভবত ৫০-৮০ টাকা (জনপ্রতি) ভাড়ায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পৌঁছানো যায়। মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন থেকে জাদুঘরে রিজার্ভ সিএনজি তে ২০০-৩০০ টাকা ভাড়া লাগতে পারে।

খোলা ও বন্ধের সময় কখন ?

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরটি সাধারনত সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোন প্রবেশ ফি লাগে না, এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

কোথায় থাকবেন ?

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কাছাকাছি থাকার জন্য তেমন কোন আবাসিক হোটেল নেই। তবে নরসিংদী জেলা শহরে বেশ কিছু হোটেল যেমন: হোটেল এক্স, হোটেল রিল্যাক্স, হোটেল নগর প্যালেস, হোটেল তানিম, হোটেল রিয়াজ, হোটেল আজিজ। এছাড়া সার্কিট হাউজ কিংবা জেলা পরিষদের ডাক বাংলাতে থাকতে পারেন।

কোথায় খাবেন ?

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের আশেপাশে কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। যেমন: বাংলা ডং রেস্টুরেন্ট, টিএফসি ফাস্টফুড এবং রায়পুরা কাচ্চি ঘর। এছাড়া নরসিংদী জেলা সদরের ডেলিজো ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, ড্রিমল্যান্ড ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে আপনি আপনার পছন্দের খাবার খেতে পারেন। 

এই পোস্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে নিচের স্টারগুলোতে ক্লিক করুন।

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

এখনও কোনো রেটিং পড়েনি। আপনিই প্রথম রেটিং দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!