ভাওয়াল রাজবাড়ী

ভাওয়াল রাজবাড়ী গাজীপুর

গাজীপুরে একদিনের জন্য ঘুরতে বের হলে ভাওয়াল রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে পারেন। জয়দেবপুরের ব্যস্ত এলাকার মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকা এই পুরোনো রাজবাড়িটি দেখলে একটু অন্যরকম অনুভূতি হবে। বিশাল ভবন, পুরোনো স্থাপত্য আর রাজবাড়িকে ঘিরে থাকা নানা গল্প মিলিয়ে জায়গাটিতে কিছুটা সময় কাটাতে ভালোই লাগবে।

ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় খুব বেশি সময়ও লাগে না। তাই পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে হুট করে একদিনের ছোট ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেও ভাওয়াল রাজবাড়ী রাখতে পারেন তালিকায়। আজ আমরা জানবো ভাওয়াল রাজবাড়ী কোথায়, এর ইতিহাস, কী দেখবেন, কীভাবে যাবেন, প্রবেশ করতে কত টাকা লাগে, খোলার সময়, কখন গেলে ভালো, কত সময় হাতে রাখবেন এবং কোথায় থাকবেন ও খাবেন।

ভাওয়াল রাজবাড়ী কোথায় অবস্থিত? 

ভাওয়াল রাজবাড়ী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকায় অবস্থিত। গাজীপুর শহরের কাছেই রাজবাড়িটির অবস্থান। জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন থেকেও সহজে এখানে যাওয়া যায়। 

ভাওয়াল রাজার ইতিহাস

ভাওয়াল রাজবাড়ী ছিল ভাওয়াল জমিদার পরিবারের প্রধান আবাসস্থল। রাজবাড়ির নির্মাণকাজ জমিদার লোকনারায়ণ রায় শুরু করেন এবং পরে রাজা কালীনারায়ণ রায় এর কাজ সম্পন্ন করেন।

ভাওয়াল রাজপরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা এই রাজবাড়ির ইতিহাসকে আরও আলোচিত করেছে। বর্তমানে রাজবাড়ির মূল ভবনের একটি অংশ গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কী কী দেখবেন

ভাওয়াল রাজবাড়ীতে ঘুরতে গেলে দেখতে পারেন—

  • পুরোনো রাজপ্রাসাদের স্থাপত্য
  • রাজবাড়ির বিভিন্ন পুরোনো ভবন
  • ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ
  • রাজবাড়ি মাঠ
  • আশপাশের পুরোনো স্থাপনা ও পরিবেশ

তবে রাজবাড়ির মূল ভবনে বর্তমানে সরকারি কার্যালয় থাকায় সব অংশ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নাও থাকতে পারে।

যাবেন কীভাবে?

ঢাকা থেকে বাসে

ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী বাসে চান্দনা চৌরাস্তা বা শিববাড়ী এলাকায় যেতে পারেন। সেখান থেকে স্থানীয় বাস, অটোরিকশা বা রিকশায় জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ীতে পৌঁছাতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে যেতে পারেন। জয়দেবপুর স্টেশন থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে ভাওয়াল রাজবাড়ীতে পৌঁছানো যায়।

নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেলে

ঢাকা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে গাজীপুরের দিকে যেতে হবে। চান্দনা চৌরাস্তা পার হয়ে শিববাড়ী হয়ে জয়দেবপুর এলাকায় পৌঁছাতে হবে। এরপর স্থানীয় সড়ক ধরে ভাওয়াল রাজবাড়ীতে যেতে পারবেন।

গাজীপুর শহর থেকে

গাজীপুর শহর বা জয়দেবপুর এলাকার যেকোনো জায়গা থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে ভাওয়াল রাজবাড়ীতে যেতে পারবেন।

দেশের অন্যান্য স্থান থেকে

দেশের অন্যান্য জেলা থেকে প্রথমে গাজীপুর শহর বা জয়দেবপুরে আসতে হবে। এরপর স্থানীয় যানবাহনে ভাওয়াল রাজবাড়ীতে যেতে পারবেন।

প্রবেশ করতে কত টাকা লাগে?

ভাওয়াল রাজবাড়ীতে প্রবেশ করতে কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্য লাগে না। বিনামূল্যেই রাজবাড়ীর বাইরে ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত অংশ ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে রাজবাড়ির মূল ভবন বর্তমানে সরকারি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

খোলার সময়

ভাওয়াল রাজবাড়ী ঘুরতে সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে যাওয়াই সুবিধাজনক। মূল ভবনে সরকারি কার্যালয় থাকায় সরকারি কার্যক্রম ও নিরাপত্তার কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

কখন গেলে ভালো

ভাওয়াল রাজবাড়ী ঘুরতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টা আরামদায়ক। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং পুরোনো স্থাপনা ঘুরে দেখতেও ভালো লাগে।

সকাল বা বিকেলে গেলে রোদ কম থাকে। কর্মদিবসে গেলে তুলনামূলক কম ভিড়ের মধ্যে ঘুরে দেখতে পারবেন।

কত সময় হাতে রাখবেন

ভাওয়াল রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে সাধারণত ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। রাজবাড়ির আশপাশের এলাকা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান দেখতে চাইলে আরও কিছুটা সময় হাতে রাখতে পারেন।

কোথায় থাকবেন এবং কোথায় খাবেন

ভাওয়াল রাজবাড়ী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় একদিনের ভ্রমণেই ঘুরে আসা যায়। সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রাজবাড়ী ঘুরে একই দিন ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন।

রাতে থাকতে চাইলে গাজীপুর শহর ও আশপাশে বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। খাবারের জন্য জয়দেবপুর ও গাজীপুর শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন।

এই পোস্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে নিচের স্টারগুলোতে ক্লিক করুন।

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

এখনও কোনো রেটিং পড়েনি। আপনিই প্রথম রেটিং দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!