ঢাকা রমনা পার্ক

এক নজরে আর্টিকেলের শিরোনামসমূহ

রমনা পার্ক হচ্ছে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও মনোরম উদ্যান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের কারণে এটি রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। সুউচ্চ গাছপালা, রঙিন ফুলের বাগান, প্রশস্ত হাঁটার পথ এবং লেক ও কাঠের সেতু পার্কের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অসংখ্য মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি, বিশ্রাম এবং প্রিয়জনদের সাথে সুন্দর সময় কাটাতে আসেন। শহর জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা প্রশান্তি পেতে অনেকেই রমনা পার্কে সময় কাটাতে আসেন। সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ ও নির্মল বাতাস দর্শনার্থীদের মনে স্বস্তি এনে দেয়। বিশেষ দিন ও ছুটির সময় পার্কে মানুষের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়, যা এর  জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

রমনা পার্ক কোথায় অবস্থিত ?

রমনা পার্ক ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে (শাহবাগ ও রমনা থানার মধ্যবর্তী স্থানে) অবস্থিত। পার্কটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় শিশু পার্ক এবং সুপ্রিম কোর্ট ও কাকরাইল মসজিদের কাছাকাছি হওয়ায় এটি খুব সহজেই যাতায়াতযোগ্য। ঘন সবুজ গাছপালা ও শান্ত পরিবেশের কারণে রমনা পার্ক রাজধানীর জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উদ্যান নামে সুপরিচিত।

রমনা পার্ক ভ্রমণের সেরা সময় কখন ?

রমনা পার্ক ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকাল ও বসন্তকাল (নভেম্বর থেকে মার্চ) মাস। সকালের সতেজ আবহাওয়া ( ভোর ৬:০০ টা থেকে সকাল ৯:০০ টা) এবং পড়ন্ত বিকেল ( বিকেল ৪:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা) এই সময়ে আবহাওয়া ঠান্ডা ও মনোরম থাকে, যা পার্কের সবুজ প্রকৃতির মাঝে হাঁটা-চলার জন্য বেশ উপযোগী।

শীতের মিষ্টি রোদ বা গ্রীষ্ম-বর্ষায় দিনের প্রথম ভাগে পার্কে বেড়ানো সবচেয়ে আরামদায়ক। বর্ষাকালে বৃষ্টির পর পার্কের লেক ও গাছপালার সতেজ রূপ এবং বসন্তে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ফুলের সমাহার দেখতে অনেক মনমুগদ্ধকর লাগে। বিকেল ৪:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে সূর্যাস্ত এবং লেকের পাড়ে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ।

কিভাবে যাবেন ?

ঢাকা শহরের যেকোন স্থান থেকে বাস, সিএনজি, রিকশা বা মেট্রোরেলে চড়ে খুব সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত রমনা পার্কে যাওয়া যায়। মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬ ব্যবহার করে সবথেকে সহজে ও দ্রুত পৌঁছানো যায়।

শাহবাগ থেকে

শাহবাগ মোড় থেকে রিকশা বা সিএনজি করেও রমনা পার্কে যাওয়া যায়। তবে যানজট থাকলে হাঁটা পথে গেলেও সামান্য সময়ই লাগবে। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে বারডেম হাসপাতালের দিকের ফুটপাত ধরে পূর্ব দিকে ( মৎস ভবনের দিকে) কিছুক্ষন হাঁটার পর শিশু পার্কের ঠিক পাশেই বা সামনেই পার্কের প্রধান প্রবেশদ্বার।

গাজীপুর থেকে

বাসে

গাজীপুর এলাকা থেকে  বাস কিংবা ট্রেন –উভয় উপায়েই সহজে রমনা পার্কে পৌঁছানো যায়। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিভিন্ন বাসে করে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছে সেখান থেকে রিকশা বা হেঁটে সহজেই রমনা পার্কে যাওয়া যায়।

ট্রেনে

কম সময় ও আরামে ভ্রমণের জন্য জয়দেবপুর বা শ্রীপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে ( যেমন: একতা, ধূমকেতু, সিল্কসিটি বা তুরাগ কমিউটার) করে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে এসে, এখান থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা সিএনজিযোগে সরাসরি রমনা পার্কে যাওয়া যায়।

মেট্রোরেলে

গাজীপুর থেকে বাসে বা যেকোন গাড়িতে প্রথমে উওরা সেন্টার স্টেশনে পৌঁছে। এখান থেকে মেট্রো ট্রেনে সরাসরি শাহবাগ স্টেশনে নেমে সিএনজি, রিকশা বা হাঁটা পথে কিছু পথ গেলেই রমনা পার্ক পৌঁছানো যায়। উওরা থেকে ঢাকার মেট্রো রেল চালু থাকায় যাতায়াত বেশ সহজ ও আরামদায়ক।

গুলিস্তান থেকে

গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট বা জিপিও-এর সামনে থেকে রিকশায় করে রমনা পার্কে যাওয়া যায়, এতে  আনুমানিক ৬০-১০০ টাকা ভাড়া নিতে পারে। এছাড়াও যেকোনো বাসে (যেমন: শিখর, বিকল্প বা তানজিল পরিবহন) করে শাহবাগ মোড়ে নেমে, সামান্য পথ হাঁটলেই রমনা পার্কে পৌঁছানো যায়।

রমনা পার্কের সময়সূচী ও প্রবেশ ফি

খোলা ও বন্ধের সময়

রমনা পার্ক প্রতিদিন সকাল ৬:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত এবং দুপুর ২:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পার্ক পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য প্রতিদিন দুপুর ১২:০০ টা থেকে দুপুর ২:০০ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে। এছাড়া পার্কের কোনো সাপ্তাহিক ছুটির দিন নেই, এটি সপ্তাহের ৭ দিনই খোলা থাকে।

টিকিট মূল্য 

রমনা পার্ক প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা ফি প্রয়োজন হয় না ; পার্কটি সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এই পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ করা যায়। তাই পার্কের ভিতরে কেউ টিকিট বা ফি চাইলে এড়িয়ে চলুন।

রমনা পার্কের আয়তন ও কি কি আছে ?

রমনা পার্কটি ৬৮.৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, এই পার্কটিকে শহরের ‘ফুসফুস’ বলা হয়। পার্কের ভিতরে রয়েছে সুবিশাল লেক, লেকের ওপর কাঠের সেতু, বসার জায়গা এবং শিশুদের খেলার কর্নার। হাঁটার জন্য আছে ইটের প্রশস্ত পথ, বসার বেঞ্চ এবং আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থা।

রমনা পার্কে রয়েছে সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, যার মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হলো রমনার বটমূল, একটি বিশাল লেক, ২১১ প্রজাতির দুর্লভ বৃক্ষ এবং হাঁটার প্রশস্ত পথ। এছাড়াও আছে পাদাউক, কেয়া, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর মতো মৌসুমী ফুলের সমাহার। রমনা পার্কে ক্লান্তি দূর করতে ও খাওয়ার জন্য ছোট-বড় বেশ  কিছু খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী স্থান রমনার বটমূল।  প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার জন্য এই বটমূল জাতীয়ে উৎসবে পরিণত হয়। 

রমনা পার্কের আশেপাশে ঘোরার জায়গা

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • জাতীয় জাদুঘর
  • শাহবাগ
  • কাকরাইল
  • জাতীয় শিশু পার্ক (বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী উল্লেখ করুন)

এই পোস্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে নিচের স্টারগুলোতে ক্লিক করুন।

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

এখনও কোনো রেটিং পড়েনি। আপনিই প্রথম রেটিং দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!