ধরন্তি হাওর

ধরন্তি হাওর
শেয়ার করুন সবার সাথে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরন্তি হাওর

আপনি যদি একজন হাওর বিলাসী হোন, তাহলে ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য। লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই হাওরটি প্রতি বছর বর্ষা এলেই মেলে ধরে তার আপন সৌন্দর্য্য। তিতাস নদীর সাথে নিচু জায়গাগুলোতে বৃষ্টির পানি মিলিত হয়ে পরিনত হয় এক বিশাল হাওরে। আর তার বুক চিরে চলে যদি চলে যায় একটি রাস্তা তাহলে তো কথায় নেই। মনে হবে যেন ইটনা-মিঠামইন-অস্টোগ্রাম সড়কের আদলেই তৈরি করা হয়েছে সড়কটি। হা বলছিলাম, বাহ্মনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরন্তী হাওরকে নিয়ে। জেলার মানুষজন এটিকে মিনি কক্সবাজার হিসেবেই চিনে। পড়ন্ত বিকেলে হাওরের মাঝে সূর্যাস্হের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে যাওয়ার কারনেই হয়ত এই নামটি তার যথার্থতা তুলে ধরতে পেরেছে।

ধরন্তি হাওরে আসার উপযুক্ত সময়

সাধারনত বছরের আগষ্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের যে কোন সময় আসলে হাওরের প্রকৃত রূপ দেখতে পারবেন।

যাবেন কিভাবে

মতিজিলের কমলাপুর রেল স্টেশন বাস স্ট্যান্ড, উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাসগুলো ছেড়ে যায়। তাছাড়া সায়েদাবাদ, শনির আখড়া থেকেও যেতে পারেন। এ সকল রুটে চলাচল করে এ রকম বাসগুলোর নাম হচ্ছে উত্তরা পরিবহন, তিতাস ( আবদুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ), সোহাগ পরিবহন, তিশা, বি.বাড়িয়া এক্সপ্রেস এসি ( কমলাপুর / শনির আখড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে )। এছাড়া সিলেটগামী যে কোন লোকাল বাসে করে আসা যাবে। ঢাকা থেকে বিশ্বরোডে আসতে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। ধরন্তি হাওরে যেতে হলে নামতে হবে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বিশ্বরোড নামক স্হানে। সেখান থেকে সিএনজি বা অটো রিজার্ভ করে যেতে হবে। ভাড়া পড়বে ২০০- ৩০০ টাকা। ধরন্তি হাওরে প্রকৃত দৃশ্য দেখতে হলে বিকাল ৪ টা থেকে ৫টা মধ্যে যেতে হবে। কুন্ডা নামক স্হানে এসে একটা ট্রলার ভাড়া করে ঘুরতে পারেন। ট্রলারের সাইজ অনুযায়ী ঘন্টা প্রতি ৪০০ – ৯০০ টাকায় ভাড়া করতে পারেন।

কেউ চাইলে ট্রেনে চড়েও ব্রাহ্মনবাড়িয়াতে আসতে পারেন। ফিরতে পথে ট্রেনেও আসতে পারেন ঢাকায়। বিকাল ৪ঃ৪২ মিনিট থেকে পেয়ে যাবেন ঢাকাগামী বিভিন্ন  আন্তঃনগর ট্রেনসহ লোকাল ট্রেন।

হাওরে দেখার কি কি আছে

হাওরের মাঝে মহীশবান নামক একটা ছোট বসতবাড়ি ভিটা আছে। চাইলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। হাতে সময় থাকলে হরিপুর জমিদার বাড়িটিও দেখে আসতে পারেন। তিতাস নদীর অথৈ জলের পাশেই ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা জমিদার বাড়িটিকে দেখলেই অন্য রকম একটি অনুভূতি কাজ করবে আপনার মনে। জমিদার বাড়ির ছাদে দাড়িয়ে দেখতে পাবেন তিতাস নদীর ওপর দিয়ে ছুটে চলছে নানা রকমের নৌকা, ট্রলার। তবে নদী পথে এই বাড়িটি দেখতে চাইলে হাতে ৪-৫ ঘন্টা সময় নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে দুপুর ১২ টা থেকেই যাত্রা করতে হবে কুন্ডা থেকে। জমিদার বাড়িতে ঘুরাঘুরি শেষে ফেরার পথেই পড়বে ধরন্তি হাওর।

খাবেন কোথায়

এখানে ভালো মানের খাবারের কোন হোটেল নেই।  তাই এই পর্যটন স্পটটিতে ঘুরতে আসার আগে অবশ্যই হালকা খাবার সাথে করে নিয়ে আসবেন। কারন, এখানে আপনি চাইলে মনমত খাবার পাবেন না।

থাকবেন কোথায়

যেহেতু দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে এসে দিনে দিনেই ঘুরাঘুরি করা যায় সেহেতু থাকার প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। তারপরও যদি থাকার প্রয়োজন হয় তাহলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া শহরে চলে যেতে হবে। সেখানে দেখে শুনে ভালো কোন হোটেলে ওঠতে হবে।

আরো দেখতে পারেনঃ

হরিপুর জমিদার বাড়ি ছাড়াও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলোঃ

  • হরিপুর জমিদার বাড়ি
  • আরিফাইল মসজিদ
  • আবি রিভার পার্ক
  • মেদিনী হাওড় অঞ্চল
  • বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু
  • কেল্লা শাহ মাজার
  • জয়কুমার জমিদার বাড়ি
  • শ্রীঘর মঠ
  • বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের কবর

ছবি ও লেখকঃ Monzur Khan


শেয়ার করুন সবার সাথে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!