। সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ করেছে। এই রেললাইনের দৈর্ঘ্য ৮২ কিলোমিটার। তবে ঢাকা থেকে ভাঙ্গার দূরত্ব ৭৭ কিলোমিটার।
যারা ঢাকা থেকে ভাঙ্গা সহজে যাতায়াত করতে চান তাদের জন্য ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার বিষয়ে জেনে রাখা জরুরি। তাই আজকের আর্টিকেলে ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা ২০২৩ নিয়ে জানানো হবে।
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের সময়সূচি ২০২৬ইং
ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটে চলাচলের জন্য চীন থেকে কেনা নতুন সাতটি কোচের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ট্রেন প্রস্তুত করা হয়েছে।তবে প্রথম দিকে নতুন ট্রেন আসছে না।তাই আপাতত পুরনো ট্রেন ব্যবহার করা হবে।এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলো :
- মধুমতি এক্সপ্রেস
- বেনাপোল এক্সপ্রেস
- সুন্দরবন এক্সপ্রেস
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনগুলো ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।তবে ট্রেনগুলো আপাতত গেন্ডারিয়া, মাওয়া, পদ্মা, শিবচর এবং ভাঙ্গা স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিবে।পরবর্তীতে আরও স্টেশন নির্মিত হলে যাত্রাবিরতির সময় আরও বাড়বে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস
ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটে যেসব ট্রেন চলবে তার মধ্যে অন্যতম সুন্দরবন এক্সপ্রেস। বুধবার এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন।বাকি ৬ দিনই ট্রেনটি চলবে এই রুটে। কমলাপুর স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ভাঙ্গা পৌঁছাবে।নতুন এই রুটে ট্রেনটি কমলাপুর-গেন্ডারিয়া, গেন্ডারিয়া-মাওয়া এবং মাওয়া-ভাঙ্গা তিনটি স্টেশনে থামবে। আর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মতো।
মধুমতি এক্সপ্রেস
ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটের আরেকটি ট্রেন হলো মধুমতি এক্সপ্রেস ।রাজশাহী থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেসের রুটের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকা পর্যন্ত চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের পাশাপাশি এই ট্রেনটিও চলবে।
বৃহস্পতিবার এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন।বাকি ৬ দিনই ট্রেনটি চলবে। কমলাপুর স্টেশন থেকে রওনা হবে।ভাঙ্গা পৌঁছাতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মতো।
বেনাপোল এক্সপ্রেস
ঢাকা টু ভাঙ্গা রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটিও চলাচল করবে। বুধবার এটির সাপ্তাহিক বন্ধ ।বাকি ৬ দিনই ট্রেনটি চলবে এই রুটে। কমলাপুর স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পৌঁছাবে। এতে সময় লাগবে সোয়া ১ ঘণ্টার মতো।
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা ট্রেন সময়সূচি
| ট্রেনের নাম | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন | ঢাকা হতে ছাড়ার সময় | ভাঙ্গা পৌঁছানোর সময় |
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬) | বুধবার | সকাল ৮:১৫ মিনিট | সকাল ৯:২৯ মিনিট |
| মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) | শনিবার | দুপুর ৩:৩০ মিনিট | বিকাল ৪:২৫ মিনিট |
| বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৬) | বুধবার | রাত ১১:৩০ মিনিট | রাত ১২:৪২ মিনিট |
ভাঙ্গা থেকে ঢাকা ট্রেন সময়সূচি
| ট্রেনের নাম | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন | ভাঙ্গা হতে ছাড়ার সময় | ঢাকা পৌঁছানোর সময় |
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫) | বুধবার | রাত ৩:৪৮ মিনিট | ভোর ৫ঃ১০ মিনিট |
| মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) | বৃহস্পতিবার | দুপুর ১২:২৩ টা | দুপুর ২:০০ টা |
| বেনাপোল এক্সপ্রেস(৭৯৫) | বুধবার | সন্ধ্যা ৭:২৮ মিনিট | রাত ৮:৪৫ মিনিট |
গুরুত্বপূর্ণ: ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে ঢাকা—দুই দিকের ট্রেনের নম্বর ও সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এক নাও হতে পারে। ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী টিকিটিং সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্যই অনুসরণ করুন।
ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬ইং
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঢাকা টু ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করেছে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গার দূরত্ব ৭৭ কিলোমিটার হলেও ৩৫৯ কিলোমিটার থেকে ৩৬৪ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এর মানে হলো পদ্মা সেতুর জন্য পন্টেজ চার্জ ধরা হয়েছে।সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হবে।এই কারণে বাসের তুলনায় ট্রেনে খরচ বেশি হবে।
চার শ্রেণীর আসনে নিম্নোক্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যথা:
| আসনের ধরণ | টিকিটের মূল্য |
| শোভন চেয়ার | ২৬৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৫১২ টাকা |
| এসি সিট | ৬১০ টাকা |
| এসি বার্থ | ৫৪১ টাকা |
বিঃদ্রঃ ভাড়া ট্রেন, আসনের শ্রেণি ও প্রযোজ্য চার্জ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। অনলাইন টিকিট কেনার সময় সার্ভিস চার্জ বা অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ যোগ হতে পারে। তাই উপরের মূল্যকে চূড়ান্ত বুকিং মূল্য হিসেবে ধরে নেবেন না।
টিকিট কাটার সময় আপনার নির্দিষ্ট যাত্রার তারিখ, ট্রেন, গন্তব্য স্টেশন ও আসনের শ্রেণি নির্বাচন করে প্রদর্শিত মূল্য দেখে নিন।
অনলাইনে ঢাকা টু ভাঙ্গা ট্রেনের টিকিট বুকিং করার নিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনা যায়।
১. বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করে লগইন করুন।
৩. যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।
৪. From Station হিসেবে ঢাকা এবং To Station হিসেবে টিকিটে নির্ধারিত সঠিক ভাঙ্গা স্টেশন নির্বাচন করুন।
৫. ট্রেন, আসনের শ্রেণি ও ভাড়া দেখে পছন্দের টিকিট নির্বাচন করুন।
৬. যাত্রীর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রদর্শিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করুন।
৭. বুকিং সম্পন্ন হলে টিকিটের তথ্য সংরক্ষণ করুন এবং যাত্রার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের Rail Sheba অ্যাপ ব্যবহার করেও টিকিট কেনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অননুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট না কেনাই নিরাপদ।
ঢাকা–ভাঙ্গা ট্রেন সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্নঃ
- ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত প্রায় ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট লাগতে পারে। যাত্রার তারিখে নির্ধারিত সময় যাচাই করুন।
- ঢাকা থেকে ভাঙ্গা ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ২৬৫ টাকা। তবে বুকিংয়ের সময় বর্তমান ভাড়া ও প্রযোজ্য চার্জ যাচাই করতে হবে।
- ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে কোন ট্রেনগুলো চলে?
সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের নাম রয়েছে। ট্রেনের চলাচল ও গন্তব্য স্টেশন যাত্রার তারিখ অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
- অনলাইনে কোথায় ট্রেনের টিকিট কিনব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd অথবা Rail Sheba অ্যাপ থেকে টিকিট কেনা যায়।
শেষ কথা
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি, সাপ্তাহিক বন্ধ, গন্তব্য স্টেশন এবং আসনভিত্তিক ভাড়া যাচাই করে নেওয়া উচিত। সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে বলে পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করুন।
ছবিটি তুলেছেনঃ হাসান মিয়া







