হাজিগঞ্জ দুর্গ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলার হাজিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি জল দুর্গ। এই দুর্গ স্থানীয়ভাবে খিজিরপুর দুর্গ নামেও সুপরিচিত। এই দূর্গের চার কোণে ৪টি গোলাকার বুরুজ আছে। এই দুর্গ চতুর্ভুজাকৃতির, এর দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং প্রস্থ ২০০ মিটার, তবে এর সীমানা প্রাচীর পঞ্চভুজাকার। দুর্গের এক কোণে আছে ওয়াচ টাওয়ার।
পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকাকে রক্ষা করতে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তিনটি দুর্গ গড়ে তোলা হয়। এই ৩টি দুর্গকে একসাথে ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্ট বলে। এর মধ্যে হাজিগঞ্জ দুর্গ অন্যতম। এছাড়া শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে সোনাকান্দা দুর্গ এবং অন্যটি মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর দুর্গ।
এই আর্টিকেল মাধ্যমে আমরা জানবো হাজিগঞ্জ দুর্গ কোথায় এবং এটি কে নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি জানবো এখানে কিভাবে যাবো, কোথায় থাকবো এবং কোথায় খাবো। আপনি যদি হাজিগঞ্জ দুর্গ ভ্রমণে আগ্রহী হন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার যাত্রাকে সহজ করতে সহযোগিতা করবে।
হাজিগঞ্জ দুর্গ কোথায় অবস্থিত ?
হাজিগঞ্জ দুর্গ নারায়ণগঞ্জ জেলার হাজিগঞ্জ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মিলনস্থলে এই জল দুর্গটি তৈরি করা হয়। ঢাকা থেকে হাজিগঞ্জ দুর্গের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। হাজিগঞ্জ দুর্গকে কেল্লারপুল বা কিল্লাপুর নামেও অনেকে চেনেন।
হাজীগঞ্জ দুর্গ কে নির্মাণ করেছিলেন ?
হাজিগঞ্জ দুর্গের নির্মাণকাল নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান এই দুর্গ নির্মাণ করেন। এই তথ্য দেন ইতিহাসবিদ আহমদ হাসান দানি তাঁর মুসলিম আর্কিটেকচার ইন বেঙ্গল গ্রন্থে। অন্যদিকে মুন্সি রহমান আলী একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ১৬৫০-১৬৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুঘল সুবাদার মীর জুমলা এই জল দুর্গ নির্মাণ করেন।
কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে নারায়ণগঞ্জ যেতে পারবেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে যেকোনো এসি বা নন-এসি বাসে করে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে আসতে হবে। আপনি উৎসব, শীতল, হিমাচল, বন্ধন ইত্যাদি বাসে করে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে সাধারনত ৪০-৫৫ টাকা ভাড়া পড়বে। এরপর চাষাড়া মোড় থেকে দুর্গে অটোতে করে যেতে ৫-১০ টাকা এবং রিকশায় করে যেতে আনুমানিক ২০-৩০ টাকা ভাড়া লাগবে।
অন্যদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নারায়ণগঞ্জগামী লোকাল ট্রেনে করে চাষাড়া স্টেশনে আসুন। ট্রেনের টিকিট ভাড়া মাত্র ১৫-২০ টাকা লাগবে। এরপর চাষাড়া স্টেশন থেকে অটো বা রিকশাতে করে হাজিগঞ্জ দুর্গে পৌঁছাতে পারবেন। চাষাড়া থেকে হাজিগঞ্জ দুর্গের দূরত্ব মাএ ২ থেকে ২.৫ কিলোমিটার।
হাজিগঞ্জ দুর্গ ঘুরে ৫-১০ টাকা দিয়ে ৫নং খেয়াঘাট পার হয়ে ওপারে যান। এখানে থেকে অটোতে ১০-২০ টাকা ভাড়া দিয়ে মুঘল আমলের আরেকটি জল-দুর্গ সোনাকান্দা দুর্গ দেখে আসুন।
কোথায় খাবেন ?
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া ও সদর এলাকায় খাওয়ার জন্য বেশ কিছু হোটেল বা রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে বৌশাখী রেস্তোরাঁ, বোস কেবিন ও মায়ের দোয়া রেস্তোরাঁ রয়েছে। এছাড়া আছে দ্য ডাইনিং লাউঞ্জ এবং সুলতান’স ডাইন ও কাচি ভাই।
কোথায় থাকবেন ?
হাজিগঞ্জ দুর্গ ভ্রমণের পর থাকার জন্য নারায়ণগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার স্কাইফ্লাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং শায়রা গার্ডেন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে থাকতে পারেন। পাশাপাশি চাষাড়া ও সদর এলাকায় কিছু হোটেল (যেমন: হোটেল মেহরান, হোটেল সুগন্ধা, হোটেল সুরমা এবং হোটেল সোনালী) ইত্যাদি হোটেলে থাকতে পারেন।
ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থান করায় একদিনে ভ্রমণ করে ঘুরে আসতে পারবেন। দূর থেকে যদি ভ্রমণ করতে আসেন তবে হিরাঝিল ও চাষাড়া এলাকার হোটেল গুলোতে রাত্রি-যাপন করতে পারেন।










