বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার একটি পরিচিত স্থাপনা। বেলাব বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মসজিদটি এর বিশাল আকার, সুন্দর স্থাপত্য ও নজরকাড়া নকশার জন্য সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বর্তমান মসজিদ ভবনটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। লালচে রঙের বিশাল ভবনটি দূর থেকেই সহজে চোখে পড়ে। মসজিদের ভেতরের নকশা, বড় ঝাড়বাতি এবং পশ্চিম পাশে থাকা পুকুর এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।
এই আর্টিকেলে জানব বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কোথায় অবস্থিত, এর ইতিহাস কী, পুরোনো মসজিদের সঙ্গে বর্তমান স্থাপনার পার্থক্য কোথায়, এর স্থাপত্যে কী বিশেষত্ব রয়েছে, এখানে কী কী দেখার আছে এবং ঢাকা থেকে কীভাবে সহজে যাওয়া যায়।
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা সদরের বেলাব বাজারে অবস্থিত। মসজিদটি বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছাকাছি এলাকায় রয়েছে। এর পেছন দিকে বয়ে গেছে আরিয়াল খাঁ নদী। নদীর কাছাকাছি অবস্থান মসজিদটির চারপাশের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বেলাব বাজারের ভেতরে অবস্থান হওয়ায় মসজিদটিতে যাওয়া বেশ সহজ। বেলাব বাজারে পৌঁছানোর পর রিকশা বা স্থানীয় অটোরিকশায় সহজেই মসজিদে পৌঁছানো যায়। চাইলে স্থানীয়দের কাছ থেকেও মসজিদের অবস্থান জেনে নিতে পারবেন।
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইতিহাস
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রায় ৩০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির প্রথম প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা ছিলেন মাহমুদ ব্যাপারী। তিনি বেলাব উপজেলার বীরবাঘব গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রথম নির্মাণের সময় মসজিদটির কাঠামো ছিল বর্তমান ভবনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তখন মসজিদে সাতটি গম্বুজ ছিল। সেই সময়ের নির্মাণশৈলীর কারণে এটি আশপাশের অন্য মসজিদ থেকে আলাদা পরিচিতি পেয়েছিল। সময়ের সঙ্গে পুরোনো ভবনটি পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আধুনিক একটি বিশাল মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে।
মসজিদটির বর্তমান অবকাঠামো নির্মাণে শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ আব্দুল কাদির মোল্লার ভূমিকা রয়েছে। ২০০৮ সালে মসজিদটির সংস্কারও করা হয়। পুরোনো ইতিহাস ধরে রেখেই বর্তমান ভবনটি বড় পরিসরে নির্মাণ করা হয়েছে।
বেলাব জামে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী
বর্তমান বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ তিনতলা একটি বিশাল স্থাপনা। লালচে রঙের বাইরের অংশ দূর থেকেই চোখে পড়ে। মসজিদের পশ্চিম পাশে থাকা পুকুরটি ভবনটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পুকুরের পানির দিকে তাকালে মসজিদের স্থাপত্যের দৃশ্য বেশ সুন্দর লাগে। মসজিদের ভেতরে প্রশস্ত নামাজের জায়গা রয়েছে। বড় বড় স্তম্ভের সঙ্গে টাইলসের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। ছাদ ও ভেতরের অংশে ঝাড়বাতি রয়েছে। মসজিদের মাঝখানে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঝুলে থাকা বড় ঝাড়বাতিটিও বেশ নজরকাড়া।
পুরোনো মসজিদের সাত গম্বুজের কাঠামো বর্তমান ভবনে না থাকলেও নতুন ভবনের নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী এটিকে নরসিংদীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মসজিদে পরিণত করেছে।
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কী দেখবেন?
বেলাব জামে মসজিদে গেলে শুধু মসজিদের বাইরের অংশ দেখেই ফিরে আসার দরকার নেই। এর স্থাপত্যের বেশ কিছু অংশ কাছ থেকে দেখার মতো।
- মসজিদের বিশাল মূল ভবন: তিনতলা ভবনের আকার ও নকশা প্রথমেই নজর কাড়বে।
- অভ্যন্তরের কারুকাজ: মসজিদের ভেতরের টাইলস, স্তম্ভ ও ঝাড়বাতি দেখতে পারেন।
- বড় ঝাড়বাতি: মসজিদের অভ্যন্তরের কেন্দ্রীয় ঝাড়বাতিটি অন্যতম আকর্ষণ।
- পানির দৃশ্য: মসজিদের পশ্চিম পাশে থাকা পুকুরটি এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পুকুরের পানিতে মসজিদের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় যা ভবনটির সৌন্দর্য বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।
- পুরোনো ইতিহাস: বর্তমান ভবনের পাশাপাশি মসজিদের প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসও জায়গাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যেতে বাসে যাওয়া সহজ। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সিলেট বা ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী বাসে উঠতে পারেন। বাস থেকে মরজাল বা বারৈচা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি বেলাব বাজারে যেতে পারবেন।
বেলাব বাজারে পৌঁছে রিকশা বা স্থানীয় অটোরিকশায় মসজিদে যাওয়া যায়। বাজারের কাছেই মসজিদটি অবস্থান হওয়ায় শেষ পথটুকু পাড়ি দিতে বেশি সময় লাগে না।
নিজস্ব গাড়িতে ঢাকা থেকে রওনা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে মরজাল বা বারৈচা হয়ে বেলাবের দিকে যেতে হবে। বেলাব বাজারে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সড়ক ধরে মসজিদের কাছে যাওয়া যায়। মসজিদটি বাজারের পরিচিত একটি স্থাপনা হওয়ায় পথ চিনতে খুব বেশি সমস্যা হবে না।
বেলাব বাজার জামে মসজিদ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ দেখতে দিনের যেকোনো সময় যাওয়া যায়। তবে সকাল ও বিকেলের সময় মসজিদের বাইরের স্থাপত্য ভালোভাবে দেখা যায়। বিকেলের নরম আলোতে মসজিদের বাইরের অংশ ও আশপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর দেখায়। বর্ষাকালে মসজিদের চারপাশে পানি জমলে এর দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তখন দূর থেকে মসজিদটিকে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনার মতো মনে হয়। ছবি তুলতে চাইলে এই সময়টি বিশেষভাবে ভালো হতে পারে।
দর্শনার্থীদের জন্য পরামর্শ
- মসজিদে প্রবেশের সময় শালীন পোশাক পরা উচিত। নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে ছবি তোলা বা কথা বলে পরিবেশের ব্যাঘাত ঘটানো থেকে বিরত থাকুন।
- মসজিদটি দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি বেলাব বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। বেলাব উপজেলার আরেকটি বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উয়ারী-বটেশ্বর। সময় হাতে থাকলে একই ভ্রমণে এই স্থানটিও ঘুরে দেখা যায়।










